
ফাহিম শাহরিয়ার রুমি : বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতের এক উজ্জ্বল নাম ছিলেন অভিনেতা ফরিদ আলী। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী আমাদের মনে করিয়ে দেয় এক নিবেদিতপ্রাণ শিল্পীর জীবনসংগ্রাম, শিল্পচর্চা এবং দর্শকদের হৃদয়ে রেখে যাওয়া অমলিন স্মৃতি।
জন্ম ও শৈশবঃ
ফরিদ আলীর জন্ম ৭ এপ্রিল ১৯৪০-এর দশকে (সাধারণত ১৯৪৫ সাল হিসেবে উল্লেখিত) ঢাকায়, তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সিতে।
শৈশব থেকেই তিনি অভিনয়ের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন এবং ধীরে ধীরে মঞ্চনাটকের মাধ্যমে তাঁর শিল্পীজীবনের ভিত্তি গড়ে ওঠে।
অভিনয়জীবনের সূচনাঃ
১৯৬২ সালে “কনে দেখা” নাটকের মাধ্যমে তাঁর অভিনয়জীবনের সূচনা।
এরপর ১৯৬৪ সালে টেলিভিশন নাটক “একতলা-দোতলা”-য় অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের নজরে আসেন।
চলচ্চিত্রে তাঁর অভিষেক ঘটে ১৯৬৩ সালে সালাউদ্দিন পরিচালিত “ধারাপাত” ছবির মাধ্যমে।
এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তিনি চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনে সমান দক্ষতায় অভিনয় করে গেছেন।
উল্লেখযোগ্য কাজ ও জনপ্রিয়তাঃ
ফরিদ আলী অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে— নদী ও নারী, তিতাস একটি নদীর নাম, গুণ্ডা, সংগ্রাম ইত্যাদি। টেলিভিশন নাটকেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিশেষ করে তাঁর সংলাপ—“টাকা দেন, দুবাই যাবো…” দর্শকদের মাঝে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়তা পায় এবং আজও স্মরণীয় হয়ে আছে।
মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ভূমিকাঃ
শুধু অভিনেতা হিসেবেই নয়, তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাও ছিলেন। দেশের স্বাধীনতার সংগ্রামে তাঁর অংশগ্রহণ তাঁকে বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে।
মৃত্যুঃ
২০১৬ সালের ২২ আগস্ট ঢাকার মিরপুরে একটি হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল প্রায় ৭০-এর কোঠায়।
তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।
মূল্যায়নঃ
ফরিদ আলী ছিলেন বাংলাদেশের অভিনয় জগতের এক বহুমাত্রিক শিল্পী। মঞ্চ, টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র—তিন মাধ্যমেই তিনি স্বচ্ছন্দ ছিলেন। তাঁর অভিনয়ে ছিল স্বাভাবিকতা, সংলাপ বলায় ছিল স্বতন্ত্র ভঙ্গি, যা তাঁকে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়।
শেষ কথাঃ
ফরিদ আলীর মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন এক প্রতিভাবান শিল্পীকে হারিয়েছে। তবে তাঁর কাজ, সংলাপ এবং চরিত্রগুলো আজও দর্শকের হৃদয়ে বেঁচে আছে।
তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছি এই গুণী অভিনেতাকে।