
এদিকে আলোচিত এই প্রতারক চক্রের জালজালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় কোটিটাকা মূল্যের সরকারি জমি( ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়) রেজিস্ট্রেশন সম্পাদনের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে বলে এলাকায় ব্যাপক গুজব ছড়িয়ে পড়েছে ।তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাও অভিজ্ঞ মহলে ধারণ।
এসব জালজালিয়াতির ঘটনায় ফেঁসে যেতে পারেন সাব-রেজিস্ট্রার, তহশিলদার( নায়েব) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
সন্দেহভাজনদের তালিকায় বেশ কয়েকজন দলিল লেখক, সহকারি দলিললেখক, স্ট্যাম্পভেন্ডার, নকল নবিশ, কম্পিউটার অপারেটরের নাম তদন্ত কমিটির সামনে আসছে ।
জালজালিয়াতির দায়ে আলামতসহ আটক মহরারকাম/ স্ট্যাম্পভেন্ডার মনসুর আলী মোল্লার দেয়া স্বীকারোক্তিতে সাবরেজিস্টার অভিযোগের দায় এড়াতে পারেন না বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের অভিমত। মনসুরআলী মোল্লা জালজালিয়াতি ও প্রতারণার দায়ে গ্রেপ্তারপূর্বক জেলাজতে প্রেরণ করেন ।
তদন্ত কমিটির প্রধান ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভূপালী সরকারের কাছে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ধৃত মনসুর আলী মোল্লা বলেন,' ঝিকরগাছা শ্রমজীবী সমবায় সমিতি' যে নিবন্ধিত ছিল না তিনি সে ব্যাপারে সাব রেজিস্টারকে জানিয়েছিলেন। তাতে জমি রেজিস্ট্রি সম্পাদনে কোন সমস্যা হয়নি.…ইত্যাদি।
তদন্তকারী কর্মকর্তার মতে, ভুয়া,জালজালিয়াতি ও তঞ্চকিপূণ সৃষ্ট দলিলের দাতা,গ্রহীতা,সাক্ষী,সনাক্তকারী কেউই অভিযুক্ত ও সন্ধিগ্ধ এই তালিকায় বাদ পড়ছে না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আসতে হবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
তদন্তকারী কর্মকর্তার মতে, শুধুমাত্র সরকারি সম্পত্তি নয়, যেকোনো সম্পত্তি হোক না কেন, সঠিক মালিকানা নিশ্চিত হয়ে সেটি বৈধ উপায়ে রেজিস্ট্রি,নামজারি, কর খাজনা দাখিলা,
এমন এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার অভিযোগের তদন্তে নেমে তদন্তকারী কর্মকর্তা ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সামনে চলে এসেছে।
যশোরের জেলা প্রশাসক বরাবর ঝিকরগাছা কাটাখাল কলোনির বাসিন্দা ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম নামে একব্যক্তির লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন ঘটনার তদন্তের সিদ্ধান্ত নেন।
জানাগেছে, তার প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের নির্দেশিত পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভূপালী সরকার এই তদন্ত কমিটির প্রধান।
প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানে নেমে তদন্ত কমিটির কাছে একাধিক চাঞ্চল্যকর জালজালিয়াতি ও প্রতারণার সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণাদি সামনে চলে এসেছে।
আলোচিত ঝিকরগাছা পৌর সদরেরকাটাখাল কলোনির জমি জালজালিয়াতির মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন সম্পাদন অতঃপর নামজারির আবেদন জমা দেয়ার মধ্য দিয়ে বিষয়টি নজরে আসে ঝিকরগাছা সহকারী কমিশনার (ভূমি )নাভিদ সারওয়ারের। দাখিলকৃত দলিলপত্রাদি ত্রুটিপূর্ণ ও সন্দেহজনক হওয়ায় তিনি তার নামজারি আটকে দেন। একই সময়ে উপজেলার নাভারন কুন্দিপুর এলাকার বাসিন্দা রুস্তম আলীর সহোদার ছোট ভাই আওরঙ্গজেব কর্তৃক তার নিজ গর্ভধারিনী মা, চারবোন ও পাঁচ ভাইয়ের বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি জালজালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করার লক্ষ্যে ঝিকরগাছা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর নামজারির আবেদন করেন। একই সময়ে নামজারীর আবেদন করে দাখিলকৃত আরো পৃথক ৭টি দলিল ত্রুটিযুক্ত,অসম্পূর্ণ ও সন্দেহজনক হওয়ায় তদন্ত শুরু করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি)।
প্রাথমিক তদন্তে জালজালিয়াতি ও প্রতারণামূলক দলিল সৃষ্টির অপচেষ্টা শনাক্ত হয় ।
প্রকাশক / সম্পাদকঃ মো. জাকির হোসেন (মিথুন)
Phone No. : 01755-416262
E-mail: sotterdorpon24@gmail.com
Office: 44/1, Family Shamsher vally, Mugda Bissoroad, Dhaka, 1214.