নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ নওগাঁর মহাদেবপুরে বহুল আলোচিত সাংবাদিক কন্যা অগ্নি দগ্ধ গৌরীর ৮ম মৃত্যু বার্ষিকী আজ।
মৃত্যুর কয়েক মিনিট আগেও পিতার কোলে উঠতে চাওয়া অগ্নি দগ্ধ সন্তানের জীবনের শেষ প্রত্যাশা পুরনে ব্যর্থ পিতা-মাতাসহ পরিবারের সদস্যদের চোখের জ্বল ও বুকের ভিতর লুকিয়ে থাকা যন্ত্রণা আজো কুঁকড়ে কুঁকড়ে খাচ্ছে। বুকের ভিতর লুকিয়ে থাকা এ যন্ত্রণা সারাজীবন শেষ হবার নয়।
২০১৮ সালের ১৯ মার্চ সকালে দৈনিক ভোরের কাগজ, দেশবার্তা পত্রিকার মহাদেবপুর প্রতিনিধি এবং আজকের কাগজের জেলা প্রতিনিধি গৌতম কুমার মহন্তের বড় মেয়ে গৌরী রানী মহন্ত (২৮) উপজেলার কুঞ্জবন আবাসিক এলাকায় নির্মিত রাস্তার পাশে তানজিদা অটো চাউল কলের মজুতকৃত আগুন যুক্ত ছাইয়ের স্তুপে পড়ে দগ্ধ হয়। এসময় তার ৮৫ ভাগ শরীর ঝলসে যায়। গৌরী রানী মহন্ত ১৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই সালের ৪ এপ্রিল মারা যায়। তার মৃত্যুর পর জেলা জুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। জেলা এবং উপজেলা প্রশাসনে তোলপাড় শুরু হয়। মৃত্যুর কয়েকটি মিনিট আগে গৌরী রানী তার পিতার কোলে উঠতে চেয়ে ছিল কিন্তু তার অগ্নি দগ্ধ শরীরকে কোলে নেয়ার মতো পরিস্থিতি না থাকায় সম্ভব হয়নি তার পিতার।সন্তানের শেষ ইচ্ছে পুরন করতে না পারা পিতা আজও বুকের ভিতরে জমে থাকা ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে। ওই ঘটনার পর তানজিদা চাউল কল কতৃপক্ষ রাস্তার পাশে আগুন যুক্ত ছাই মজুত কয়েক দিন বন্ধ রাখলেও পরের বছরের প্রথম থেকে আবারো রাস্তার পাশে আগুন যুক্ত ছাই মজুত করছে। ফলে আবারো ওই ছাইয়ের স্তুপে পড়ে যে আর কোন গৌরী রানীকে জীবন দিতে না হয় এমন প্রত্যাশা স্থানীয় সচেতন মহলের। মহাদেবপুর প্রেসক্লাব সভাপতি ও নওগাঁ জেলা কনজুমার এ্যাসোসিয়সনের সভাপতি আজাদুল ইসলাম আজাদ বলেন, ২০১৮ সালে রাস্তার পাশে বয়লারের ছাইয়ের অগ্নি স্তুপে পড়ে গৌরী রানীর মৃত্যু মেনে নেয়ার মতো নয়।রাস্তার পাশে বয়লার চাতাল ও অটোমেটিক চালকলের মজুতকৃত ছইয়ের আগুনে পুড়ে একজনের মৃত্যু হলেও সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এখনো নিরব দর্শকদের ভুমিকা পালন করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি এব্যপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবী জানান এ সাংবাদিক নেতা।
প্রকাশক / সম্পাদকঃ মো. জাকির হোসেন (মিথুন)
Phone No. : 01755-416262
E-mail: sotterdorpon24@gmail.com
Office: 44/1, Family Shamsher vally, Mugda Bissoroad, Dhaka, 1214.