ফাহিম শাহরিয়ার রুমি: আজ বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা, প্রযোজক ও পরিচালক ফিরোজ খান–এর মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৯ সালের ২৭ এপ্রিল ভারতের বেঙ্গালুরুতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৬৯ বছর। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ের পর এই গুণী শিল্পী চিরবিদায় নেন।
জন্ম ও শুরুর জীবন:
১৯৩৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ ভারতের মাইসোর (বর্তমান কর্ণাটক) অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন ফিরোজ খান। তাঁর প্রকৃত নাম ছিল জুলফিকার আলি শাহ খান।
শৈশব থেকেই তিনি অভিনয়ের প্রতি আগ্রহী ছিলেন এবং ১৯৫০-এর দশকের শেষ দিকে চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন।
অভিনয়জীবন ও উত্থান:
ফিরোজ খান প্রায় পাঁচ দশকের ক্যারিয়ারে ৬০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।
১৯৬৯ সালের চলচ্চিত্র Aadmi Aur Insaan–এ অভিনয়ের জন্য তিনি ফিল্মফেয়ার সেরা পার্শ্ব অভিনেতার পুরস্কার অর্জন করেন। তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্রগুলো হল- Didi (১৯৬০), Main Shadi Karne Chala (১৯৬২), Reporter Raju (১৯৬২), Tarzan Goes to India (১৯৬২), Char Dervesh (১৯৬৪), Oonche Log (১৯৬৫), Samson (১৯৬৪/৬৫), Aadmi Aur Insaan (১৯৬৯, Safar (১৯৭০), Mela (১৯৭১), Apradh (১৯৭২), Upaasna (১৯৭১/৭২), Geeta Mera Naam (১৯৭৪), International Crook (১৯৭৪), Dharmatma (১৯৭৫), Kala Sona (১৯৭৫), Rani Aur Lalpari (১৯৭৫), Shankar Shambhu (১৯৭৬), Nagin (১৯৭৬), Kabeela (১৯৭৬), Darinda (১৯৭৭), Qurbani (১৯৮০), Khoon Aur Paani (১৯৮১), Kachche Heere (১৯৮২), Jaanbaaz (১৯৮৬), Janbaaz, Dayavan (১৯৮৮), Yalgaar (১৯৯২), Kala Bazaar (১৯৮৯/৯০), Meet Mere Man Ke (১৯৯১), Prem Aggan (১৯৯৮), Janasheen (২০০৩), Ek Khiladi Ek Haseena (২০০৫ – বিশেষ উপস্থিতি)। Welcome (২০০৭) প্রভৃতি।
তিনি শুধু অভিনেতা নন, একজন সফল নির্মাতাও ছিলেন। তাঁর পরিচালিত ও প্রযোজিত চলচ্চিত্রগুলো হল- Apradh (১৯৭২), Dharmatma (১৯৭৫), Qurbani (১৯৮০), Jaanbaaz (১৯৮৬), Dayavan (১৯৮৮), Yalgaar (১৯৯২), Prem Aggan (১৯৯৮), Janasheen (২০০৩) প্রভৃতি৷ এই চলচ্চিত্রগুলো বলিউডে স্টাইল, অ্যাকশন ও আধুনিকতার নতুন ধারা তৈরি করে।
স্টাইল আইকন হিসেবে পরিচিতি:
ফিরোজ খানকে প্রায়ই “ভারতের ক্লিন্ট ইস্টউড” বলা হতো। তার পোশাক, অভিনয়ের ভঙ্গি এবং পর্দার ব্যক্তিত্ব বলিউডে এক নতুন ট্রেন্ড তৈরি করে। ওয়েস্টার্ন ধাঁচের উপস্থাপনা ও সাহসী গল্প বলার কারণে তিনি ছিলেন সমসাময়িকদের থেকে আলাদা।
সম্মাননা ও স্বীকৃতি:
ফিল্মফেয়ার সেরা পার্শ্ব অভিনেতা (১৯৭০)
ফিল্মফেয়ার লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড (২০০০)। এই সম্মাননাগুলো তাঁর দীর্ঘ ও প্রভাবশালী চলচ্চিত্রজীবনের স্বীকৃতি বহন করে।
শেষ অধ্যায়:
২০০৭ সালে Welcome চলচ্চিত্রে তাঁর শেষ অভিনয় দেখা যায়। এরপর ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে ২০০৯ সালের ২৭ এপ্রিল তিনি পৃথিবী থেকে বিদায় নেন।
উত্তরাধিকার:
ফিরোজ খানের উত্তরাধিকার শুধু তাঁর চলচ্চিত্রে সীমাবদ্ধ নয়—তিনি বলিউডে স্টাইল, সাহসী নির্মাণশৈলী এবং আন্তর্জাতিক মানের উপস্থাপনার এক নতুন যুগের সূচনা করেছিলেন। তাঁর ছেলে ফারদিন খান–ও বলিউডে অভিনেতা হিসেবে পরিচিত।
শেষ কথা:
ফিরোজ খান ছিলেন এমন এক শিল্পী, যিনি শুধু অভিনয় করেননি, তিনি একটি স্টাইল, একটি দর্শন এবং একটি যুগ তৈরি করেছিলেন।
তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণ করা হয় এক সাহসী, আধুনিক ও স্বতন্ত্র চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বকে—যিনি বলিউডকে নতুনভাবে চিনতে শিখিয়েছিলেন।
প্রকাশক / সম্পাদকঃ মো. জাকির হোসেন (মিথুন)
Phone No. : 01755-416262
E-mail: sotterdorpon24@gmail.com
Office: 44/1, Family Shamsher vally, Mugda Bissoroad, Dhaka, 1214.