ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি: কোন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তিনটির বেশি শ্রেণিশাখা খোলা যাবে না মর্মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে কঠোর বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ফলে, মানসম্মত ভালো কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তিচ্ছুক অতিরিক্ত শিক্ষার্থীরা ভর্তির সুযোগ পাচ্ছেন না। সে কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে তীব্র ক্ষোভ, হতাশা,উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। এমতাবস্থায় পছন্দনীয় ও ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি প্রত্যাশী কোমলমতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহল শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের বিধি নিষেধ শিথিল করার জোর দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে সচেতন ও দায়িত্বশীল অভিভাবকদের মতে, সার্বিক শিক্ষার মানদন্ডে তুলনামূলক পিছিয়ে পড়া ও অকৃতকার্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রয়োজনে কর্তব্যে অবহেলায় দায়ী শিক্ষকদের এমপিও বাতিলের মতো কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করা হচ্ছে। কারণ হিসেবে স্পষ্টতো বলা হচ্ছে, কোন বিদ্যালয়ের ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন রাতারাতি সম্ভব হয়না। এক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষক মন্ডলীর আন্তরিক প্রচেষ্টা, দক্ষতা, আন্তরিকতা, সৃজনশীলতা, নিয়মানুবর্তিতা ও কঠোর শৃঙ্খলা অপরিহার্য। বিশেষ করে একজন প্রধান শিক্ষকের প্রশাসনিক দক্ষতার গুণাবলী শিক্ষার ধারাবাহিক সাফল্য ও মানোন্নয়নে অন্যতম বৈশিষ্ট্য থাকা অপরিহার্য। এসবের ব্যত্যয় ঘটলে কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান ধরে রাখা সম্ভব নয়। এমন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কোন দায়িত্বশীল ও সচেতন অভিভাবক জেনে বুঝে তাঁর সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে পিছিয়ে পড়া কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করতে ইচ্ছুক নন। এটি হলো আসল বাস্তবতা। অথচ সদ্যজারীকৃত প্রজ্ঞাপনটি কোমলমতি মেধাবীশিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্ত ছাড়া আর কিছু নয় বলে অভিমত ব্যক্ত করেন অভিভাবকরা।
জানাগেছে গত ০১/০১/২০২৬ ইং তারিখে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোর-এর বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর ড. মো: কামরুজ্জামান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়,"অত্র শিক্ষা বোর্ডের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুমতি ব্যতীত শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে যা বিধি পরিপন্থী। এছাড়াও এই বোর্ডের আওতাধীন বিভিন্ন নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিধি বহির্ভূতভাবে শ্রেণি শাখার অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করে পাঠদান পরিচালনা করা হচ্ছে যা প্রবিধানমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এমতাবস্থায় এরূপ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন ব্যতীত এবং বিধি বহির্ভূতভাবে শ্রেণি শাখার অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি না করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হলো। অন্যথায় এই সকল প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে"। শিক্ষা বোর্ড যশোরের এই প্রজ্ঞাপন ঝিকরগাছার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ বদরুদ্দিন মুসলিম হাই স্কুলে ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে চরম হতাশা সৃষ্টি করেছে। একসময়ে পশ্চাৎপদ অবস্থায় খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে যে 'আলোকিত' করা যায় তার উৎকৃষ্ট ও নজিরবিহীন উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন ঝিকরগাছা উপজেলার আজকের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ বদরউদ্দিন (বিএম) মুসলিম হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ।জানাযায়,১৯৯৯সালের ০১জুন গুণী এই শিক্ষক বিএম হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
মাত্র ১২২জন শিক্ষার্থী নিয়ে পথচলা তাঁর।নানা অসঙ্গতি ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে তিনি তাঁর মেধা,প্রজ্ঞা,দূরদর্শী চিন্তা,নিরলস শ্রম ও দক্ষতার গুণে বিদ্যালয়টিতে এনে দিয়েছেন অভাবনীয় সাফল্য। বর্তমানে এই বিদ্যালয়টিতে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা দেড় সহস্রাধিক! তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতায় বিদ্যালয়টির দীর্ঘ প্রায় আড়াই দশকের ক্রমবর্ধমান সাফল্যের ধারাবাহিকতা সেটি আজ প্রমাণিত। বিদ্যালয়টি থেকে এবার ৬শিক্ষার্থী মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।প্রতিটি শিক্ষা বছরের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায় জিপিএ ছড়াছড়ি।সাধারণ গ্রেডসহ অন্যান্য গ্রেডের ফলাফলও ঈর্ষণীয়-অভাবনীয় তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। অথচ একই প্রেক্ষাপটে উপজেলার বিভিন্ন নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ফলাফল অত্যন্ত হতাশা জনক। বদরুদ্দিন মুসলিম হাই স্কুলের এই অভাবনীয় সাফল্য অর্জনের কারণে প্রতিষ্ঠানটিতে ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয় প্রধান শিক্ষকসহ গোটা শিক্ষকমন্ডলী ও পরিচালনা পর্ষদকে। কিন্তু, দুর্ভাগ্যজনক সত্যি যে, সরকারি বিধি নিষেধ আরোপ করায় তিনশাখায় ১৬৫জনের বেশি শ্রেণিশিক্ষার্থীর অতিরিক্ত ভর্তির সুযোগ থাকছে না।
প্রকাশক / সম্পাদকঃ মো. জাকির হোসেন (মিথুন)
Phone No. : 01755-416262
E-mail: sotterdorpon24@gmail.com
Office: 44/1, Family Shamsher vally, Mugda Bissoroad, Dhaka, 1214.