
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
লাশ নামেরকবিতা শুধু কবিতা নয় এটা মানুষের হৃদয়ে মনিকোঠায় অশ্রু ও হৃদয়ে রক্তক্ষরণ প্রবাহিত হয়েছে। বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে বিমান দুর্ঘটনায় অনেক মানুষের মৃত্যুর সংবাদ আমরা সংবাদপত্রে এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় শুনেছি ।
বিমান দুর্ঘটনা ঘটলেই পাইলট চেষ্টা করে বিমান যাত্রীদের বাঁচানোর জন্য অক্লান্ত প্রচেষ্টা। পাইলট তার জীবনের বাজি রেখে প্রথমেই প্যারাসুট খুলে দেয় যাতে যাত্রীরা সহজেই প্যারাসুটের মাধ্যমে পৃথিবীতে অবতরণ করে তাদের জীবন বাঁচাতে পারে। তারপর নিজেকে দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচাতে তিনিও প্যারাসুটের মাধ্যমে পৃথিবীতে অবতরণ করার অনেক নজির রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে ৩৪ বছরে ৩২ টি বিমান দুর্ঘটনায় কবলিত হয়েছে। তবে একুশে জুলাই প্রশিক্ষণ বিমানে আগুন ধরে একটি কলেজের ছাদে পড়ে ,অনেক ছাত্র-ছাত্রীর প্রাণ মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে এই সুন্দর পৃথিবী থেকে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। অনেক লাশ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে আকাশ বাতাস প্রকম্পিত হয়েছে মানুষের হৃদয়ের আকুতি। বাবা হারিয়েছে তার প্রিয় সন্তানকে মা হারিয়েছে ছেলের ভবিষ্যতের স্বপ্নকে। মা বাবার দুজনের আশা ছিল সন্তান ভালোভাবে লেখাপড়া শিখে মানুষের মতন মানুষ হয়ে দেশ-জাতি সমাজ ও পিতা-মাতার খেদমত করবে। কিন্তু ক্ষণিকের দুর্ঘটনায় তাদের সেই আশা চিরদিনের জন্য শেষ হয়ে গেছে। মা-বাবার বুকফাটা কান্না এবং আহতদের খোঁজার জন্য পাগলনি হয়েছে সন্তানের মা বাবা। আমরা জানি খোলা আকাশের নিচে বিমান প্রশিক্ষণের জন্য উত্তোলন করা হয়ে থাকে। কিন্তু জানিনা কেন ঘনবসতি এলাকায় বিমান উত্তোলন করা হলো। এর জবাব কে দেবে আমরা জানিনা। এখনো স্বপ্নের ঘরে শুনতে পাই আহতদের চিৎকার কে আছো আমাদের বাঁচাও আমরা বাঁচতে চাই। এই সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে আমরা চলে যেতে চাইনি।
তরুণ কবি লেখক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক আমাদের সকলের প্রিয়ভাজন হাস্যোজ্জ্বল একজন সত্যিকারের মানুষ। যার ভিতরে আছে মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, দেশ ও জাতির কল্যাণে একজন বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর বিশিষ্ট সাংবাদিক আতাউর রহমান জসি রচিত কবিতা *লাশ “এটা শুধু সাহিত্যকর্ম নয় বরণ এক জাতির বেদনার বহি: প্রকাশ, ।একটি স্বপ্ন একটি কলেজের দিন শুরু, আর হঠাৎ এক অনাহত আগুনে ঝলসে পড়া জ্বলন্ত লাশ। সম্ভাবনার গল্প এই কবিতায় জীবন্ত হয়ে ফুটে উঠেছে। লাশ নামের এই কবিতা, ছাদের উপর ঝরে পড়া স্বপ্ন। আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন এক গভীর সত্য কিভাবে এক মহান বিপর্যয় শুধুমাত্র মৃত্যুর গল্প নয় বরণ মানবতা প্রতিবাদ স্মৃতি ইতিহাসের উত্থানের কাহিনী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নবদ্বীপ কলেজের সেই সাধারণ সকাল যেখানে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার আনন্দ ভেসে যাচ্ছিল নতুন দিনের সূর্য। হঠাৎ আকাশ ছেদ করে নেমে আসে এক জলন্ত বিমান দাও দাও করে জ্বলতে থাকে সেই ভয়ংকার আগুন। ছাদের উপর আছড়ে পড়া সেই বিমানের বিস্ফোরণের আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় অনেক স্বপ্ন ভবিষ্যৎ আর অসমাপ্ত জীবন।
সেই মুহূর্তে তারুণ্য প্রতীক আমাদের প্রিয় কবি আতাউর রহমান জসি চোখের সামনে ভেসে ওঠে কিভাবে জীবন্ত ছাত্র-ছাত্রীরা পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। আর তিনি ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় শোকাহত দৃষ্টিতে বুঝতে পারেন এ টি শুধু মাত্র একটি দুর্ঘটনা নয়, এক জাতির হৃদয়বিদারক ক্ষত। কবিতা যখন আর্তনাদ এবং প্রতিবাদের ভাষা হয়ে ওঠে, তখন সেই জাতিকে স্মরণ করিয়ে দেয় আর কোন মা-বাবার কোল যেন খালি না হয়। বিমান উত্তোলনের আগে ভালো করে চেক করে তারপরে বিমান উত্তোলন করা উচিত বলে আমি মনে করি। শুধু আমি নই ১৮ কোটি মানুষ মনে করে এ ধরনের দুর্ঘটনা জাতির ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছুই না। দুর্ঘটনার পর কবি গভীর রাত্রে খাতা কলম হাতে নিয়ে মুহূর্তের মধ্যে রচনা করেন লাশ নামের একটি কবিতা। কবিতার প্রতিটা লাইন ছিল শিউরে ওঠার মতন কাহিনী। এই কবিতায় ছিল বেঁচে থাকা আর আত্মচিৎকার কণ্ঠস্বর যন্ত্রনা ও আত্মনাদের বহিঃপ্রকাশ।
কবিতার প্রতিটি শব্দ হয়ে ওঠে আগুনের চেয়েও ভয়াবহ। সমাজ কাঁপে, জাতি অশ্রুসিক্ত। এই কবিতা দ্রুত ভাইরাল হয়ে দেশ বিদেশে হৃদয়ের প্রতিবাদের ভাষায়।
ক্ষণিকের মধ্যে জ্বলে ওঠে প্রতিবাদের আগুন।
ছাত্র-ছাত্রীরা গেট জুড়ে প্রতিবাদের আওয়াজ তুলে “আমরা শুধু লাশ দেখিনি, আমরা তাদের কণ্ঠস্বর। কবিরসাহিত্য ও আন্দোলন এক হয়ে ওঠে। “লাশ সাহিত্য মঞ্চ” গড়ে ওঠে, যেখানে কবিতা আর শুধু শব্দ নয়, একটি ঐতিহাসিক অস্ত্র।
কবি আতাউর রহমানজসি বারবার বলেন, “আমার হাতে শুধু কলম ছিল আর, রক্ত ছিল ওদের।”
ডাইরির পাতায় যাদের মুখ নেই একদিন কবি পুরাতন ব্যাগ থেকে বের করেন ছাত্রদের অসমাপ্ত কবিতা চিঠি।
প্রত্যেকটির প্রতিফলনে তিনি অনুভব করেন তাদের হারানোর বেদনা। একে একে চিঠি লেখেন মৃত ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে, যা শুধু লাশ নয় বরং সমালোচনা এবংপ্রশ্ন সেই সমাজের প্রতি।
এই লেখাগুলো থেকে তৈরি হয় বই “লাশ: এক শিক্ষক, এক জাতি , এক কবিতা” যা স্মৃতি ও সচেতনতার দলিল হিসেবে পরিচিতি পায়।
নিহত ছাত্রদের পরিবার এখনও কাঁদে। কিন্তু তারা এই বই পড়ে বলে, “আমার সন্তান শুধু লাশ নয়, সে এখন ইতিহাস।”
কবি আতাউর রহমান জসি দাঁড়িয়ে থাকেন সেই কলেজ ছাদে যেখানে আগুনের ধোঁয়া উঠেছিল, তাকিয়ে বলেন “কিন্তু এবার ওগুলো পুড়ছে না, আলো ছড়াচ্ছে।
“লাশ” কবিতা শুধু একটি রচনা নয়, এক শিক্ষক হৃদয়ের কান্না, এক প্রজন্মের ব্যর্থ স্বপ্নের বর্ণনা, আর আমাদের জাতির জেগে ওঠার প্রতীক।
কবি আতাউর রহমান জসি বলেছিলেন, “আমি লিখিনি ওদের হয়ে, ওরাই লিখিয়েছে আমাকে।”
এ কথা আমাদের সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেয় সাহিত্য কত বড় এক জবাবদিহি, আর একটি জাতির মর্মস্পর্শী বিবরণ।
এই কবিতা ও আমাদের সামনে তুলে ধরে সেই করুণ বাস্তবের মুখোমুখি দাঁড়ানোর আহ্বান, যা শুধু স্মরণ নয়, পরিবর্তনের ডাক। তবে একটি বিষয় না বললে নয় যখন দাউদাউ করে জ্বলছে আগুন আর সেই আগুনেরভেতর থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিমান থেকে বের করে নিয়ে আসছে আমাদের প্রিয় সেনাবাহিনী, পুলিশ, ভাইয়েরা।
আসুন, আমরা সবাই তাদের স্মৃতিকে সম্মান জানাই, এবং সেই স্মৃতির