
ফাহিম শাহরিয়ার রুমি: বাংলা চলচ্চিত্রের এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা, পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার সুখেন দাস-এর মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৪ সালের ৪ এপ্রিল তিনি কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে একটি নার্সিংহোমে তাঁর মৃত্যু হয়।
জন্ম ও শৈশবঃ
১৯৩৮ সালের ২৮ জুলাই কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন সুখেন দাস, যার আসল নাম ছিল সুখেন্দ্রনাথ দাস। শৈশবের একটি বড় সময় তিনি অনাথ আশ্রমে কাটিয়েছেন। আর্থিক সংকটের কারণে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সম্পূর্ণ হয়নি। পরবর্তীতে জীবনের কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়েই তিনি চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশের পথ খুঁজে নেন।
শিশুশিল্পী হিসেবে তাঁর অভিনয় জীবন শুরু হয় পরিচালক দেবনারায়ণ গুপ্তের চলচ্চিত্র ‘দাসীপুত্র’ (১৯৪৯)-এ।
চলচ্চিত্রজীবনঃ
সুখেন দাস বাংলা বাণিজ্যিক সিনেমার এক গুরুত্বপূর্ণ নাম। অভিনেতা হিসেবে তিনি যেমন জনপ্রিয় ছিলেন, তেমনি পরিচালক ও গল্পকার হিসেবেও সফলতা অর্জন করেন।
তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে—প্রতিশোধ (১৯৮১), ধান্যি মেয়ে (১৯৭১), রাজনন্দিনী (১৯৮০), দাদামণি (১৯৮৪)
পরিচালক হিসেবে তিনি নির্মাণ করেন বহু জনপ্রিয় চলচ্চিত্র, যেমন—মিলন তিথি, সায়নী, মান অভিমান (১৯৭৮), সিংহদুয়ার (১৯৭৮)।
তাঁর অভিনয়ের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল ট্র্যাজিক চরিত্রে গভীর আবেগময় উপস্থিতি। তবে কমেডি চরিত্রেও তিনি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।
ব্যক্তিজীবনঃ
সুখেন দাস ব্যক্তিজীবনে দুইবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁর পুত্র রাজত দাসও চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর পরিবারে আরও রয়েছেন অভিনেত্রী পিয়া সেনগুপ্ত এবং নাতি বনি সেনগুপ্ত, যারা বাংলা চলচ্চিত্রে পরিচিত নাম।
মৃত্যু ও উত্তরাধিকারঃ
২০০৪ সালের ৪ এপ্রিল তাঁর মৃত্যু বাংলা চলচ্চিত্র জগতে এক শূন্যতা তৈরি করে। প্রায় পাঁচ দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি অসংখ্য চলচ্চিত্রে কাজ করে দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন।
আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণ করা হয় একজন সংগ্রামী শিল্পীকে—যিনি অনাথ আশ্রম থেকে উঠে এসে নিজের প্রতিভা ও পরিশ্রমে বাংলা সিনেমায় এক অনন্য অবস্থান তৈরি করেছিলেন। তাঁর কাজ ও অবদান বাংলা চলচ্চিত্র ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।