
ফাহিম শাহরিয়ার রুমি: ভারতীয় চলচ্চিত্রজগতে সমান্তরাল ধারার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্মাতা কল্পনা লাজমির জন্মদিন উপলক্ষে তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে। বাস্তবধর্মী গল্প, নারীর জীবনসংকট এবং সামাজিক বৈষম্যকে চলচ্চিত্রে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর।
১৯৫৪ সালে জন্ম নেওয়া কল্পনা লাজমি শিল্প-সাহিত্যঘন পরিবেশে বড় হন। তাঁর মা ছিলেন খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী ললিতা লাজমি এবং তিনি কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার গুরু দত্তের ভাগ্নি। ছোটবেলা থেকেই শিল্পের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ গড়ে ওঠে, যা পরবর্তীতে তাঁকে চলচ্চিত্র নির্মাণে নিয়ে আসে।
চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে কল্পনা লাজমি মূলত সমান্তরাল সিনেমার ধারা অনুসরণ করেন। তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্রগুলোতে সামাজিক বাস্তবতা, নারীর সংগ্রাম এবং গ্রামীণ জীবনের কঠিন চিত্র প্রাধান্য পায়। বিশেষ করে রুদালি (১৯৯৩) তাঁকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত করে তোলে। এই চলচ্চিত্রে নারীর দুঃখ, সামাজিক নিপীড়ন এবং জীবনের কঠিন বাস্তবতাকে গভীরভাবে উপস্থাপন করা হয়।
পরবর্তীতে তিনি দমন (২০০১) এবং চিঙ্গারি (২০০৬) চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। এসব চলচ্চিত্রেও সমাজের প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম এবং নারীর অবস্থানকে কেন্দ্র করে গল্প নির্মাণ করা হয়।
কল্পনা লাজমি দীর্ঘদিন সংগীতশিল্পী ভূপেন হাজারিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন, যা তাঁর চলচ্চিত্রে আবেগ ও সুরের এক বিশেষ মাত্রা যোগ করে।
২০১৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি দীর্ঘদিন কিডনি ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে মৃত্যুবরণ করেন। তবে তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্রসমূহ ভারতীয় সমান্তরাল সিনেমার ইতিহাসে আজও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
চলচ্চিত্রবোদ্ধাদের মতে, কল্পনা লাজমি ছিলেন এমন একজন নির্মাতা, যিনি চলচ্চিত্রকে কেবল বিনোদনের মাধ্যম না ভেবে সমাজের বাস্তবতা তুলে ধরার শক্তিশালী ভাষা হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
জন্মদিনে এই মহীয়সী নারী নির্মাতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।