
ফাহিম শাহরিয়ার রুমি: আজ ৩ জুন। বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী ছায়াদেবী-এর জন্মদিন। বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্রে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয় করে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন ভারতীয় সিনেমার অন্যতম শ্রেষ্ঠ চরিত্রাভিনেত্রী হিসেবে। তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলো জনপ্রিয়তার পাশাপাশি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে স্থায়ী স্থান করে নিয়েছে।
১৯১৪ সালের ৩ জুন তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের ভাগলপুরে জন্মগ্রহণ করেন ছায়াদেবী। শৈশব ও কৈশোরের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি অভিনয়জগতে প্রবেশ করেন। ১৯৩৬ সালে চলচ্চিত্রে তাঁর অভিষেক ঘটে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি দর্শক ও সমালোচকদের নজর কাড়েন। বিশেষ করে পরিচালক দেবকী বসু পরিচালিত বিদ্যাপতি চলচ্চিত্রে রানি লক্ষ্মীর চরিত্রে অভিনয় তাঁকে ব্যাপক খ্যাতি এনে দেয়।
বাংলা সিনেমার স্বর্ণযুগে ছায়াদেবী ছিলেন এক অপরিহার্য উপস্থিতি। তিনি কখনও স্নেহময়ী মা, কখনও কঠোর অভিভাবক, কখনও আবার সমাজবাস্তবতার গভীর প্রতীকী চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে সপ্তপদী, নির্জন সৈকতে, উত্তর ফাল্গুনী, সাত পাকে বাঁধা, অ্যান্টনি ফিরিঙ্গী, হাটে বাজারে এবং আপনজন।
বিশেষ করে পরিচালক তপন সিংহ-এর চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় নতুন মাত্রা পেয়েছিল। নির্জন সৈকতে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা অভিনেত্রীর সম্মান অর্জন করেন, যা বাংলা চলচ্চিত্রের জন্যও একটি গৌরবজনক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়।
পর্দায় তিনি বহুবার অভিনয় করেছেন উত্তম কুমার, সুচিত্রা সেন এবং সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়-এর মতো কিংবদন্তি শিল্পীদের সঙ্গে। তাঁর অভিনয় ছিল সংযম, অভিব্যক্তির গভীরতা এবং চরিত্রের ভেতরে সম্পূর্ণভাবে মিশে যাওয়ার ক্ষমতা।
১৯৯৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তোমার রক্তে আমার সোহাগ তাঁর শেষ চলচ্চিত্র। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন এবং বাংলা সিনেমায় চরিত্রাভিনয়ের এক উজ্জ্বল মানদণ্ড স্থাপন করে যান।
২০০১ সালের ২৫ এপ্রিল কলকাতায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কিন্তু মৃত্যুর পরও তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলো দর্শকের স্মৃতিতে সমানভাবে জীবন্ত রয়েছে। বাংলা চলচ্চিত্রে ‘মা’, ‘ঠাকুমা’ কিংবা দৃঢ়চেতা নারীর যে শক্তিশালী রূপ আমরা দেখি, তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নির্মাতা ছিলেন ছায়াদেবী।
আজ তাঁর জন্মদিনে বাংলা চলচ্চিত্রের এই মহান শিল্পীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিত্ব ও শিল্পসাধনা আগামী প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।