
আতাউর রহমান জসি ঝিকরগাছা (যশোর) থেকে– ঝিকরগাছা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে গ্রাম গঞ্জের আনাচে-কানাচে অসংখ্য মনোয়ারা এভাবেই নীরবে নিভৃতে নিঃসঙ্গ একাকিত্বে মানবতার জীবনযাপন করছে। এ সকল অসহায় মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য সরকার চালু করেছে বিধবা, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী, স্বামী পরিতক্তা সহ নানাবিধ ভাতা। রাষ্ট্রযন্ত্রের যাতা কলে পিষ্ট হয়ে এসকল অসহায় নারীরা বঞ্চিত হচ্ছে এ সকল ভাতা থেকে। জনপ্রতিনিধিরা ব্যক্তি স্বার্থ রাজনীতির মারপেচে এ সকল মানুষদেরকে বঞ্চিত করছে। বয়স্ক ভাতার নীতিমালায় মহিলাদের ক্ষেত্রে ৬২ বছর পুরুষের ক্ষেত্রে ৬৫ বছরের কথা বলা হলেও অনেক ক্ষেত্রে মানা হচ্ছেন এ সকল নিয়ম-নীতি। যেমন মানা হয়নি ৭০ বছর বয়সী মনোয়ারার ক্ষেত্রে। নীতিমালায় বলা হয়েছে মহিলাদের ক্ষেত্রে১৯৬৩ ও পুরুষের ক্ষেত্রে ১৯৬০ আগে যাদের জন্ম তারাই বয়স্ক ভাতার উপযোগী হিসেবে গণ্য হবে। মনোয়ারার জাতীয় পরিচয় পত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায় ১৯৫৫ সালে মনোয়ারার জন্ম। যার বর্তমান বয়স ৭১ প্লাস। আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু গদখালী ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের মৃত আবুল হক মোড়লের কন্যা নিঃসন্তান হতদরিদ্র মনোয়ারার কথা। ষাটের দশকে রূপ লাবণ্যে ভরা মনোয়ারার বিবাহ হয় পৌর সদরের মোবারকপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের সাথে। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে নিঃসন্তান মনোয়ারার দাম্পত্য জীবন কাটে হতাশা আর দোন্যতায়। স্বামীর দ্বিতীয় বিবাহের পর চলে আসেন বাবার বাড়ি ফতেপুরে। বিবাহের চার বছর পর বাবা হারান মনোয়ারা। একমাত্র ভাই সফিয়ারের বাড়িতেই আশ্রয় হয় মনোয়ারার। ভাইয়ের তিনটি কন্যা সন্তান পরম মমতায় স্নেহ আদরে আগলে রাখেন মনোয়ারা। একমাত্র ভাই সফিয়ার ২০১০ সালে প্যারালাইজড হয়ে শয্যাশায়ী হয়। ভাইয়ের স্ত্রী প্রথম দিকে শয্যাশায়ী স্বামীর পাশে থেকে সেবা যত্ন করলেও ২০১৮ সালে অসুস্থ স্বামী ও দ্বিতীয় শ্রেণীর কন্যা তামান্না, চতুর্থ শ্রেণীর তামিমা ও ষষ্ঠ শ্রেণীর মোমতাহিনাকে ফেলে দ্বিতীয় বিবাহ করেন। শিশু কন্যা সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভাবেনি তিনি । দ্বিতীয় শ্রেণীর তামান্না এখন নবম শ্রেণীতে আর চতুর্থ শ্রেণীর তামিমা এখন সম্মিলনী মহিলা ডিগ্রী কলেজে একাদশ শ্রেণীতে পড়ে।এদিকে কন্যা সন্তানদের অসুস্থ বাবা হতাশায় জর্জরিত হয়ে মানসিক যন্ত্রণায় ২০২৫ সালে শিশু সন্তানদেরকে রেখে পৃথিবীর মায়া ছেড়ে পরলোকে পাড়ি জমান । বাবা মা হারা এ সকল এতিম সন্তানদের তখন একমাত্র ভরসা তাদের ফুপু মনোয়ারা। সরেজমিনে দেখা যায় বৃদ্ধা মনোয়ারা ছোট ছোট ভাইজিদের খাবারের ব্যবস্থা করতে রান্নাঘরে উনানের পাশে বসে আছে। জিজ্ঞাসা করলাম বয়সের ভারে আপনিতো নুয়ে পড়েছেন এ অবস্থায় কিভাবে রান্নাবান্না করছেন। জবাবে বললেন ওদের যে আর কেউ নেই, রান্না তো আমাকেই করতে হবে। জিজ্ঞাসা করলাম সরকারি কোন ভাতা পান কিনা। বললেন শাহাবুদ্দিন চেয়ারম্যান,মিজানুর চেয়ারম্যান ও শাহাবুদ্দিন চেয়ারম্যানের ছেলে প্রিন্স চেয়ারম্যানের আমলেও কেউ আমাকে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেয়নি। ওয়ার্ড মেম্বারকে বহুবার অনুরোধ করেও কোন ফল হয়নি। তিনি কোন বয়স্ক ভাতার কার্ডের ব্যবস্থা করে দেননি। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট গদখালি ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন অনলাইন না করলে কেহ বয়স্ক ভাতা পাবেন না। মনোয়ারা কোন অনলাইন করে নাই, তাই তিনি বয়স্ক ভাতার আওতায় আসেন নাই। এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মেসবাহ উদ্দিন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন এ ব্যাপারে আমি নীতিমালার আলোকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এবং সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার সাথে কাজ করে থাকি। মনোয়ারার ব্যাপারে আমার অফিসে কোন তথ্য নাই। তিনি অনলাইনে কোন আবেদন করেননি। তিনি এ প্রতিবেদককে মনোয়ারার আইডি কার্ড জমা দেয়ার অনুরোধ করেন এবং বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।