
নদী ভাঙনে নিঃস্ব হাজারো পরিবার, টেকসই সমাধানের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক- বর্ষা মৌসুমে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নদী ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশের বড় চারটি নদী—পদ্মা, যমুনা, মেঘনা ও তিস্তার তীরবর্তী এলাকায় প্রতিদিন জমি, ফসল আর ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।
কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও মাদারীপুর জেলার পদ্মা নদীপাড়ে শত শত পরিবার ইতোমধ্যে গৃহহীন হয়ে পড়েছে। ভাঙনের মুখে থাকা অনেক পরিবার শেষ মুহূর্তে ঘরবাড়ির টিন, বাঁশ, দরজা-জানালা খুলে নিয়ে অন্যত্র সরে যাচ্ছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেঘনা পাড়, সিরাজগঞ্জের যমুনা তীর ও লালমনিরহাটের তিস্তা অঞ্চলও একই সংকটের মুখে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী ভাঙন রোধে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা অস্থায়ী এবং পর্যাপ্ত নয়। কোথাও জিওব্যাগ ফেলা হলেও, তা ভাঙনের গতি থামাতে পারছে না। ফলে মানুষ প্রতিনিয়ত নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।
নদী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নদীর স্রোত ও প্রবাহ হঠাৎ বদলে যাচ্ছে। অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ ও বালু উত্তোলন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ করছে। তাঁরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে নদী ব্যবস্থাপনা না করলে প্রতিবছর একই চিত্র দেখা যাবে বলে আশঙ্কা করছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জরুরি ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে কাজ চলছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পুনর্বাসন এবং স্থায়ী সমাধান সময়সাপেক্ষ।
এদিকে ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষ আশ্রয়, ত্রাণ এবং পুনর্বাসনের জন্য সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।