
ফাহিম শাহরিয়ার রুমি: আজ ২ জুন। বিংশ শতাব্দীর ক্রীড়া ও চলচ্চিত্র ইতিহাসে এক অনন্য নাম জনি ওয়াইজমুলার (Johnny Weissmuller)-এর জন্মদিন। তিনি শুধু একজন অলিম্পিক সাঁতারুই নন, বরং হলিউডের প্রথম সারির অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার তারকা হিসেবেও বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন।
জনি ওয়াইজমুলারের জন্ম ১৯০৪ সালের ২ জুন, তৎকালীন অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি সাম্রাজ্যের ফ্রাইডর্ফ (বর্তমান রোমানিয়ার টিমিসোয়ারা অঞ্চলে)। শৈশবে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই সাঁতারে অসাধারণ প্রতিভার পরিচয় দেন এবং পরে শিকাগোর Illinois Athletic Club-এর হয়ে প্রতিযোগিতামূলক সাঁতারে যুক্ত হন।
১৯২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিস্ময় সৃষ্টি করেন। সেখান থেকে ৩টি স্বর্ণ ও ১টি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন। এরপর ১৯২৮ সালের আমস্টারডাম অলিম্পিকে আরও ২টি স্বর্ণ জিতে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব আরও দৃঢ় করেন। মোট তিনি ৫টি অলিম্পিক স্বর্ণপদক এবং ৬৭টি বিশ্বরেকর্ড গড়েন, যা তাঁকে ২০শ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাঁতারু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
তিনি প্রথম দিকের সেই ক্রীড়াবিদদের একজন, যিনি ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইল এক মিনিটের নিচে সাঁতার কাটতে সক্ষম হন—যা তখন ছিল এক অসাধারণ কীর্তি।
সাঁতারের ক্যারিয়ার শেষে ওয়াইজমুলার সিনেমায় আসেন এবং ১৯৩২ সালে Tarzan the Ape Man চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেন। এরপর তিনি মোট ১২টি টারজান চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন (১৯৩২–১৯৪৮)।
তার গর্জনধ্বনি “টারজান ইয়েল” চলচ্চিত্র ইতিহাসে এক আইকনিক চিহ্ন হয়ে আছে। পরবর্তীতে তিনি ‘Jungle Jim’ সিরিজেও অভিনয় করেন এবং অ্যাডভেঞ্চার ধারার জনপ্রিয় মুখ হয়ে ওঠেন। ওয়াইজমুলার ছিলেন শারীরিকভাবে শক্তিশালী, অ্যাথলেটিক এবং ক্যামেরার সামনে অত্যন্ত স্বাভাবিক উপস্থিতির অধিকারী। তাঁর উচ্চতা ও গঠন তাঁকে টারজান চরিত্রের জন্য একেবারে আদর্শ করে তোলে।
১৯৮৪ সালের ২০ জানুয়ারি তিনি মেক্সিকোর আকাপুলকোতে মৃত্যুবরণ করেন। তবে তাঁর ক্রীড়া ও চলচ্চিত্রের অবদান আজও বিশ্বজুড়ে স্মরণীয়।
জনি ওয়াইজমুলার এমন একজন ব্যক্তি, যিনি একদিকে অলিম্পিকের ইতিহাসে সোনালি অধ্যায় লিখেছেন, অন্যদিকে চলচ্চিত্রে “জঙ্গল রাজা” টারজান হিসেবে এক অনন্য সাংস্কৃতিক আইকন হয়ে আছেন। তাঁর জীবন ক্রীড়া ও শিল্প—দুই জগতের সেতুবন্ধন হিসেবে আজও অনুপ্রেরণার উৎস।
জন্মদিনে এই মহান ক্রীড়া ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা৷