
ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি। যশোরের ঝিকরগাছায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ভ্যান চালক শামীম পারভেজ (২১) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে -২ আসামিকে আটক সহ নিহতের ব্যাটারিচালিত ভ্যান উদ্ধার করা হয়েছে। থানা পুলিশসূত্রে জানা গেছে, নিহত শামীম পারভেজ পেশায় একজন ভ্যান চালক এবং বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ছিলেন। তিনি ঝিকরগাছা বাজার এলাকার শরিফুল নামের এক ব্যক্তির ভ্যান গ্যারেজ থেকে ভাড়া নিয়ে ঝিকরগাছা-শ্রীরামপুর সড়কে ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত (২৯ জানুয়ারি ) শুক্রবার সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে শামীম বাড়ি থেকে বের হয়ে গ্যারেজ থেকে ভ্যান নিয়ে কাজে যান। একইদিন বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে বাড়িতে এসে দুপুরের খাবার খেয়ে পুনরায় বের হন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন ৩০ জানুয়ারি শনিবারসকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে ঝিকরগাছা উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের আঙ্গারপাড়া গ্রামের নাইলপুকুর সংলগ্ন একটি কলাবাগানে শুকনো ঘাস দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় শামীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার গলায় লুঙ্গি পেঁচানো ছিল।
এ ঘটনায় নিহতের মা পারুল (৪৯) বাদী হয়ে ঝিকরগাছা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি স্পর্শকাতর হওয়ায় দ্রুত রহস্য উদঘাটনে যশোরের পুলিশ সুপার নির্দেশ দেন। পরে মামলার তদন্তভার এসআই (নিঃ) হুসাইন আহমেদের ওপর ন্যস্ত করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন, আলামত সংগ্রহ, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে ৩১ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. ইব্রাহিম খলিল (২১) কে পুলিশ আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিশু মো. মামুন (১২) কে আটক করা হয়। আটককৃতদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একইদিন রাত আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে ইব্রাহিম খলিলের বাড়ির দক্ষিণ-পূর্ব পাশে রান্নাঘরের পেছনে খড়ের গাদার পাশ থেকে পলিথিনে ঢাকা অবস্থায় নিহতের ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ভ্যানটি জব্দ করে থানার হেফাজতে নেওয়া হয়।
আটককৃত ইব্রাহিম খলিল ঝিকরগাছা উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেন ও চায়না বেগমের ছেলে। আটক শিশু মামুন একই এলাকার জুয়েল ও বিউটি খানমের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আরও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।