
আজ ৬ডিসেম্বর ঝিকরগাছা হানাদার মুক্তি দিবস
আতাউর রহমান জসি ঝিকরগাছা (যশোর) থেকে।
আজ ঐতিহাসিক৬ ডিসেম্বর। যশোরের ঝিকরগাছা হানাদার মুক্ত দিবস হিসাবে ঘোষণা করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ৩০ লক্ষ বাঙ্গালী ২ লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে দীর্ঘ ৯ মাস রক্তয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। এই দিন ঝিকরগাছা হানাদার মুক্ত হয়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীরা মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যুদ্ধে টিকতে না পেরে যশোর সেনানিবাসঅভিমুখে পালিয়ে গেলে ঝিকরগাছাহানাদার মুক্ত দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয় । ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে সারা দেশের ন্যায় ঝিকরগাছা উপজেলার নিরস্ত্র মুক্তিপাগল ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক ও বুদ্ধিজীবিসহ সর্বশ্রেণির বীর বাঙালী মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। যুদ্ধ চলাকালে পার্শ¦বর্তী চৌগাছা উপজেলার সিংহঝুলি গ্রামের কৃতিসন্তান ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতামশিয়ুর রহমানকে পাকহানাদার বাহিনী ও দেশীয়রাজাকাররা তাকেধরে নিয়ে যেয়ে হাত-পা বেঁধে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে। এরপর পাকহানাদার বাহিনী (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) উপজেলায় মধ্যবর্তী কাবিলপুর, গোয়ালহাটি এলাকা দিয়ে ঝিকরগাছার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান গ্রহণ করে। ১৯৭১ সালের ৫ই ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর ঝিকরগাছার কপোতাক্ষ নদেরউপর অবস্থিত ব্রিজ পার হয়ে ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দিয়ে রাতে পালিয়ে যায় পাকিস্তানি সেনারা । তার ফলে ঝিকরগাছা হানাদার মুক্ত দিবস ঘোষণার সাথে সাথে হাজার হাজার স্বাধীনতা কামি মানুষ বাজারে নেমে বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত করে তোলে। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, আমার দেশ তোমার দেশ, বাংলাদেশ বাংলাদেশ গণিতে মুখরিত হয়ে ওঠে ।জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমেই ঝিকরগাছা মুক্ত দিবস ঘোষণা করেন যুদ্ধ জয়ী মুক্তিযোদ্ধারা।পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে আরো ধরা পড়েন ঝিকরগাছা উপজেলার মাটিকুমড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ গোলাম মোস্তফা হরিদ্রা পোতা এলাকায় ধরে তাকে বেনেটদিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে
ছুটিপুর হানাদার বাহিনীর সাথে সম্মুখে যুদ্ধ করে শহীদ হন ক্যাপ্টেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর মোহাম্মদ,। উজ্জ্বলপুরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের কবর রয়েছে। কায়েমকুলা কবরে চিরনিদ্রায় আছেন শহীদ আব্দুল হামিদ, বাঁকড়ার হেম, ইসমাইল, আবু বকর সিদ্দিকী, নাম না জানা অনেক মুক্তিযোদ্ধা। অথবা কাঙ্ক্ষিত ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস অর্জিত হয়।