
ফাহিম শাহরিয়ার রুমি: ভারতীয় উপমহাদেশের আধুনিক সংগীত ইতিহাসে যেসব কণ্ঠ শ্রোতাদের হৃদয়ে গভীর ছাপ রেখে গেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কেকে (Krishnakumar Kunnath)। ২০২২ সালের ৩১ মে কলকাতায় একটি লাইভ কনসার্ট শেষে হঠাৎ মৃত্যুবরণ করেন এই জনপ্রিয় প্লেব্যাক গায়ক। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৩ বছর। প্রতি বছর ৩১ মে দিনটি সংগীতপ্রেমীদের কাছে হয়ে ওঠে শোক ও শ্রদ্ধার দিন—কারণ এই দিনেই থেমে যায় এক অনন্য সুরযাত্রা।
১৯৬৮ সালের ২৩ আগস্ট ভারতের দিল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন কেকে। পড়াশোনা শেষ করে তিনি প্রথমে বিজ্ঞাপন জগতের জিঙ্গেল গানের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করেন। পরে বলিউডে প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন ১৯৯৬ সালে। পরবর্তী দুই দশকে তিনি হয়ে ওঠেন ভারতীয় পপ ও বলিউড সংগীতের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী। হিন্দি ছাড়াও তিনি তামিল, তেলেগু ও কন্নড় ভাষায় অসংখ্য গান গেয়েছেন।
কেকে-এর গানের বিশেষত্ব ছিল তার আবেগঘন কণ্ঠ ও সহজ-সরল সুরের উপস্থাপন। বিশেষ করে কলেজ জীবন, প্রেম, বিচ্ছেদ ও বন্ধুত্বের অনুভূতি প্রকাশে তাঁর গান হয়ে উঠেছিল এক প্রজন্মের প্রতিচ্ছবি। “Yaaron”, “Tadap Tadap”, “Khuda Jaane”, “Zindagi Do Pal Ki”, “Aankhon Mein Teri”–এর মতো গানগুলো আজও শ্রোতাদের কাছে সমান জনপ্রিয়। সংগীত সমালোচক ও গণমাধ্যম তাঁকে “Voice of Love” এবং “voice of a generation” হিসেবেও আখ্যায়িত করেছে।
২০২২ সালের ৩১ মে কলকাতার নজরুল মঞ্চে একটি কলেজ ফেস্টে পারফর্ম করেন কেকে। পারফরম্যান্স শেষে হোটেলে ফেরার পথে অসুস্থ বোধ করেন তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা প্রতিবেদনে হৃদরোগকে (cardiac arrest / myocardial infarction) মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তাঁর মৃত্যুর খবরে ভারতসহ বিশ্বজুড়ে সংগীতাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ফেসবুক, ইউটিউব ও সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে অসংখ্য শ্রদ্ধাঞ্জলি ও স্মৃতিচারণ। প্রতি বছর ৩১ মে সংগীতশিল্পী, ভক্ত ও সহকর্মীরা তাঁকে স্মরণ করেন নানা আয়োজনে। কনসার্ট, কভার পারফরম্যান্স, এবং অনলাইন ট্রিবিউট ভিডিওর মাধ্যমে তাঁর গান নতুন করে বেঁচে ওঠে। ইউটিউব ও ফেসবুকে ভক্তরা এখনো নিয়মিত তাঁর লাইভ পারফরম্যান্স ও গান শেয়ার করেন, যা নতুন প্রজন্মকেও তাঁর সংগীতের সঙ্গে পরিচিত করছে।
মৃত্যুবার্ষিকীতে এই কিংবদন্তি সঙ্গীত শিল্পীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।