
প্রতিবেদন: মো. আব্দুল্লাহ হোসাইন– আধুনিক যুগে মোবাইল ফোন ছাড়া এক মুহূর্তও যেন কল্পনা করা যায় না। যোগাযোগ, শিক্ষা, ব্যবসা, বিনোদন—সবকিছুতেই এখন এই ছোট ডিভাইসের ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু এই সহজলভ্য প্রযুক্তিই আজ পরিণত হচ্ছে নীরব এক বিপর্যয়ে।
অতিরিক্ত ও অসচেতন ব্যবহার মানুষের শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিক জীবনে ফেলছে নেতিবাচক প্রভাব। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় মোবাইল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখের দৃষ্টি ক্ষীণ হয়, ঘাড়ে ও মেরুদণ্ডে ব্যথা দেখা দেয়, এমনকি মস্তিষ্কের কোষও বিকিরণের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়া নীল আলো ঘুমের সময় ব্যাহত করে, ফলে অনেকেই অনিদ্রায় ভুগছেন। এদিকে, মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যবহার মানসিক ভারসাম্যেও আঘাত করছে। পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর পরিবর্তে মানুষ এখন স্ক্রিনে ডুবে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
এর ফলে সামাজিক যোগাযোগ কমে যাচ্ছে, সম্পর্কের উষ্ণতা হারিয়ে যাচ্ছে এবং একাকিত্ব বাড়ছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যেও মোবাইল আসক্তি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। পাঠ্যবইয়ের চেয়ে গেম, ভিডিও ও সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি আগ্রহ বেড়ে যাওয়ায় মনোযোগ নষ্ট হচ্ছে এবং শিক্ষার মান কমছে। অন্যদিকে, মোবাইল ফোনকে কেন্দ্র করে বেড়ে চলেছে বিভিন্ন সাইবার অপরাধ—ভুয়া তথ্য ছড়ানো, প্রতারণা, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, মোবাইল ফোন এক অপরিহার্য মাধ্যম হলেও এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত ও সচেতন না হলে তা সমাজে ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রয়োজন পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত সচেতনতা, যেন এই প্রয়োজনীয় যন্ত্রটি আশীর্বাদ হয়ে থাকে—অভিশাপ নয়।