
ফাহিম শাহরিয়ার রুমি: বাংলা গানের স্বর্ণালী অধ্যায়ের অন্যতম উজ্জ্বল নাম ছিলেন আঞ্জুমান আরা বেগম। আধুনিক গান, চলচ্চিত্রের গান, দেশাত্মবোধক সংগীত ও লোকধারার সুরে নিজের স্বতন্ত্র কণ্ঠে তিনি হয়ে উঠেছিলেন কোটি শ্রোতার প্রিয় শিল্পী। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে সংগীতপ্রেমীরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছেন এই গুণী কণ্ঠশিল্পীকে।
১৯৪২ সালের ১১ জানুয়ারি বগুড়ায় জন্মগ্রহণ করেন আঞ্জুমান আরা বেগম। খুব অল্প বয়স থেকেই সংগীতচর্চার সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ বেতার, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে গানের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর কণ্ঠে আবেগ, মাধুর্য ও উচ্চারণের স্বচ্ছতা ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
ষাট ও সত্তরের দশকে বাংলা গানের জগতে তিনি ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত মুখ। চলচ্চিত্রের গানে যেমন তিনি সাফল্য পেয়েছেন, তেমনি আধুনিক গানেও রেখেছেন শক্ত অবস্থান। তাঁর গাওয়া বহু গান আজও শ্রোতাদের স্মৃতিতে অম্লান হয়ে আছে। বিশেষ করে ঘুমপাড়ানি ও আবেগঘন গানগুলো মানুষের হৃদয়ে আলাদা জায়গা করে নেয়। তাঁর জনপ্রিয় ও উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে—“তুমি আসবে বলে”, “আকাশের হাতে আছে একরাশ নীল”, “স্বরণের প্রান্তরে”, “অভিমান করো না”, “চাঁদনী ভিজি ভিজি হাওয়া”, “বৃষ্টি যখন ঝরে”, “সাথী রঙের”, “খোকন সোনা বলি শোন”, “বারকত সালামের শোণিতে” ও “কেঁদোনা কেঁদোনা মাগো” প্রভৃতি।
এছাড়াও তিনি আধুনিক গান, দেশাত্মবোধক গান, নজরুলসংগীত, গজল ও লোকগানে সমান দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন।
সংগীতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক লাভ করেন। দীর্ঘ সংগীতজীবনে তিনি দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর পরিবারের সঙ্গেও সংগীতের গভীর সম্পর্ক ছিল। জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লা তাঁর মামাতো বোন এবং কণ্ঠশিল্পী জীনাত রেহানা ছিলেন তাঁর বোনঝি।
২০০৪ সালের ২৯ মে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। কিন্তু মৃত্যুর পরও তাঁর গান আজও বেঁচে আছে শ্রোতাদের হৃদয়ে। বাংলা সংগীতের ইতিহাসে আঞ্জুমান আরা বেগম এক অনিবার্য নাম হয়ে থাকবেন।
মৃত্যুবার্ষিকীতে এই গুণী শিল্পীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।