
ফাহিম শাহরিয়ার রুমি: আজ ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত অভিনেতা Roland Young-এর মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৫৩ সালের ৫ জুন তিনি নিউইয়র্কে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মঞ্চ, চলচ্চিত্র, রেডিও ও টেলিভিশন—সব মাধ্যমেই তিনি নিজের স্বতন্ত্র অভিনয়শৈলীর জন্য স্মরণীয় হয়ে আছেন। বিশেষ করে হাস্যরসাত্মক ও অভিজাত ভদ্রলোক চরিত্রে তাঁর অভিনয় তাঁকে হলিউডের স্বর্ণযুগের অন্যতম জনপ্রিয় চরিত্রাভিনেতায় পরিণত করেছিল।
১৮৮৭ সালের ১১ নভেম্বর ইংল্যান্ডের লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন রোল্যান্ড ইয়াং। তিনি Royal Academy of Dramatic Art-এ অভিনয় শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং ১৯০৮ সালে লন্ডনের মঞ্চে অভিনয়জীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে ব্রডওয়েতেও সাফল্যের সঙ্গে কাজ করেন এবং ধীরে ধীরে চলচ্চিত্র জগতে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
১৯২৯ সালে হলিউডে তাঁর চলচ্চিত্রযাত্রা শুরু হয়। তবে প্রকৃত খ্যাতি আসে ১৯৩৭ সালের চলচ্চিত্র Topper-এ কসমো টপার চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে। এই ছবিতে তাঁর অসাধারণ অভিনয় তাঁকে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা বিভাগে অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডের (অস্কার) মনোনয়ন এনে দেয়। পরবর্তীতে তিনি Topper Takes a Trip এবং Topper Returns ছবিতেও একই চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের ভালোবাসা অর্জন করেন।
রোল্যান্ড ইয়াংয়ের উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে David Copperfield, The Man Who Could Work Miracles, The Philadelphia Story, Two-Faced Woman এবং And Then There Were None। তিনি প্রায় শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন এবং প্রতিটি চরিত্রে নিজস্ব সৌন্দর্য ও রসবোধের ছাপ রেখেছেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি রোল্যান্ড ইয়াং ছিলেন একজন দক্ষ চিত্রশিল্পী ও ক্যারিকেচার অঙ্কনশিল্পী। তাঁর আঁকা বহু ক্যারিকেচার বিখ্যাত সাময়িকী Life–এ প্রকাশিত হয়েছিল। তিনি কয়েকটি বইও রচনা করেন, যা তাঁর বহুমাত্রিক সৃজনশীলতার পরিচয় বহন করে।
তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৬০ সালে মৃত্যুর পর তাঁকে হলিউডের Hollywood Walk of Fame-এ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন—দুই বিভাগে দুটি তারকা (স্টার) প্রদান করা হয়। এই বিরল সম্মান তাঁর দীর্ঘ ও সফল শিল্পীজীবনের স্বীকৃতি বহন করে।
মৃত্যুর সাত দশকেরও বেশি সময় পরে আজও রোল্যান্ড ইয়াং স্মরণীয় তাঁর মার্জিত অভিনয়, নিখুঁত কমেডি টাইমিং এবং চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলার অসাধারণ ক্ষমতার জন্য। হলিউডের স্বর্ণযুগের ইতিহাসে তিনি এক উজ্জ্বল নাম, যার কাজ চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে এখনও সমানভাবে উপভোগ্য ও প্রাসঙ্গিক।