
ফাহিম শাহরিয়ার রুমি- চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যুরো চীফ
কুমিল্লায় বেতন ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে ইন্টার্নশিপ নার্সরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা করেছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১০টার দিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে শৃঙ্খলা বজায় রেখে শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন পালন করেন তাঁরা।
ডিপ্লোমা পড়ুয়া ইন্টার্ন নার্স ও মিডওয়াইফদের বেতন ভাতা আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি ঘোষণা করেন তাঁরা। এতে কুমিল্লা সদর হাসপাতাল ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত সকল শিক্ষানবীশরা অংশগ্রহণ করেন৷ এ সময় তাদের হাতে ‘আমাদের শ্রমের মূল্য দিতে হবে’ ‘আমাদের দাবি ন্যায্য দাবি, মানতে হবে’ ‘কর্তৃপক্ষ চুপ কেন জবাব চাই’ এমন সব প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার ছিল।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ইন্টার্ন নার্সেস এসোসিয়েশনের (বিডি আইএনএ) ইন্টার্ন শেখ ফরিদ, আশিকুর রহমান, সাকিবুর রহমান, তহুরা হামিম, শারমিন, সাজেদা, পুতুল আক্তার প্রমুখ।
মানববন্ধনে ইন্টার্ন নার্সরা জানায়, আমরা কুমিল্লা সরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউট থেকে তিন বছর মেয়াদী “ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সাইন্স এন্ড মিডওয়াইকারি” কোর্স সম্পন্ন করে সদর হাসপাতালে ইন্টার্ন নার্স হিসেবে কর্মরত আছি। নিয়ম অনুযায়ী আমরা ইন্টার্ন ভাতা পাই। কিন্তু বাস্তবে আমাদের কোনো বেতন ভাতা দেওয়া হচ্ছে না।
তাঁরা আরো জানায়, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির বাজার, বাসা ভাড়া, থাকা-খাওয়া, যাতায়াত খরচ, সবমিলিয়ে প্রতিমাসে একেক জনের ৮-১০ হাজার টাকা খরচ হয়। পড়াশোনা শেষ করে ইন্টার্নশিপ করা অবস্থায় পরিবার থেকে টাকা এনে খরচ করাটা আমাদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে যাচ্ছে। খরচ চালাতে গিয়ে আমাদের পরিবার হিমশিম খাচ্ছে।
তাছাড়া হাসপাতালে ফুলটাইম ডিউটি করে বাহিরে কোথাও কাজ করারও সুযোগ থাকে না। যে কারণে আমরা কোথাও কাজও করতে পারছি না। তাঁর মধ্যে অনেক পরিবার মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত, যেখানে তাঁদের দিনাতিপাত করাই কষ্টসাধ্য হচ্ছে। সেখান সন্তানের ইন্টার্নশিপ চলাকালীন খরচ চালানোর জন্য মাসে ৮-১০ হাজার টাকার খরচ বহন করাটা কষ্টসাধ্য হয়ে যাচ্ছে। বেতন ভাতার বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যহত থাকবে বলে ঘোষণা করেছেন তাঁরা।