
এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে
আতাউর রহমান জসি ঝিকরগাছা (যশোর) থেকে।আশির দশকের কথা। যিনি মনে মনে লালন করেছিলেন ভেবেছিলেন এই জনপদকে দৃষ্টি নন্দন ,নজর কাড়া, মানুষের মন হরণকারী, চারিদিকে সবুজে-শ্যামলে ঘেরা ,দিগন্ত জোড়া ফুল ফসলে সবুজের চাদর দিয়ে ঢাকা গদখালির পানিসারা হয়ে উঠবে একটি ঐতিহাসিক স্থান। সেই কল্পনার পাখায় ভর করে তিনি নিজের ক্ষেতে করছিলেন ফুলের চাষ। একজন যুবকের হাতে রজনীগন্ধা ফুল দেখে কৌতুহল নিয়ে জিজ্ঞাসাকরেছিলেন এটা কি ফুল কোথায় পাওয়া যায় এই ফুলের বীজ। জেনেছিলেন ভারতে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের বীজ পাওয়া যায়। সেই ভাবনা থেকেই ভারতের গিয়ে কিনে আনলেন রজনীগন্ধার বীজ। শুরু করলেন নিজের এক বিঘা জমিতে রজনীগন্ধার চাষ। এভাবেই শুরু তার পথ চলা।এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এ যুবক আর কেউ নয়। তিনি ছিলেন গদখালী পানিসারার প্রত্যন্ত অঞ্চলের ফুলের জনক শের আলী সরদার। যার হাত ধরে বাংলাদেশে ফুল চাষের সবুজ বিপ্লব ঘটেছিল, যার বদৌলতে আজকের গদখালি বাংলাদেশের ফুলের রাজধানী খ্যাতি হিসাবে খ্যাতি লাভ করেছে।, তিনি ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা ইউনিয়নের মৃত রহমান সরদারের ছেলে। ১৯৫০ সালে জন্ম নেয়া শের আলী কুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে বাবার জমিতে কৃষি কাজ শুরু করেন। গোলাপ ,রজনীগন্ধা ,চন্দ্রমল্লিকা ,জারবেরা, টিউলিপ সহ বাহারী ফুলের চাষ করে গদখালীর ফুল সেক্টর কে তিনি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের দরবারে গদখালির পানিসারাকে একটি ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে ছিলেন। বিশ্বের ১৭-১৮ টি দেশ ভ্রমণ করে উন্নত প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি গদখালী অঞ্চলের শত শত চাষীও ব্যবসায়ীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এ খ্যাতিমান পুরুষ (১২ই ফেব্রুয়ারি )বুধবার বার্ধক্য জনিত কারণে আনুমানিক ভোর ৫ টা ৪৫ মিনিটে এই জনপদের মানুষকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন যশোর জেলা প্রশাসন। এদিকে গদখালী ফুল চাষী অ্যাসোসিয়েশন তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করে একদিনের জন্য সকল ফুল বিপণন বাজারজাতকরণ বন্ধ ঘোষণা করেছে। মৃত্যুকালে তিনি দুই স্ত্রী চার পুত্র তিন কন্যা সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। মরহুমের প্রথম জানাজা জোহরবাদ তার নিজ বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় জানাযা আসর বাদ পানিসারা ফুল মোড়ে জামে মসজিদ চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে মসজিদ প্রাঙ্গণে উত্তর পাশে সমাহিত করা হয়। এ সময় জানাযায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভূপালী সরকার। জানাযায় অংশগ্রহণ করেন সহকারি কমিশনার ( ভূমি)নাভিদ সারোয়ার, ঝিকরগাছা উপজেলাকৃষি অফিসার কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম, ঝিকরগাছা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, বিএনপি’র কেন্দ্র কমিটির স্থায়ী সদস্য ও ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবিরা নাজমুল মুন্নি। সাধারণ সম্পাদক ইমরান সামাদ নিপুন। সাবেক উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোর্তজা এলাহী টিপু। সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মুরাদুন্নবী,সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সাত্তার, ফুল চাষী ও ফুল ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবুল খায়ের ,সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর, যশোর জেলার ফুল উৎপাদন ও বিপণন সমিতির সভাপতি সভাপতি আব্দুর রহিম সহ ফুল চাষী, ফুল বিক্রেতা ,মসজিদের মুসল্লী আত্মীয়-স্বজন শুভাকাঙ্সাংক্ষী , সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।