
ফাহিম শাহরিয়ার রুমি-
বিনোদন সাংবাদিক
বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় কবি ও টিভি উপস্থাপক আসাদ চৌধুরী আর নেই। তিনি বাংলাদেশ সময় (আজ বৃহস্পতিবার, ৫ অক্টোবর) দুপুর ২টায় কানাডার অশোয়া শহরে লে’ক রিজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না-ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি ব্লাড ক্যান্সার, শ্বাসকষ্ট, কিডনি জটিলতাসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কবি আসাদ চৌধুরীর মৃত্যুতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জনাব কে এম খালিদ এমপি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি আজ এক শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
শোকবার্তায় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, কবি আসাদ চৌধুরীর মৃত্যু বাংলা সাহিত্যের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর লেখনী বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। তিনি তাঁর সৃষ্টিশীল কর্মের মধ্য দিয়ে সাহিত্যপ্রেমী মানুষের হৃদয়ে চিরজাগ্রত থাকবেন।
তাছাড়া সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনের ব্যক্তিবর্গ ও পাঠকরা তাঁর মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
তিনি ১৯৫৭ সালে আরমানিটোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৬০ সালে বরিশালের ব্রজমোহন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে ১৯৬৩ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা বিভাগে অনার্স ও ১৯৬৪ সালে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।
কর্মজীবনে তিনি ১৯৬৪-১৯৭২ সাল পর্যন্ত ব্রাক্ষণবাড়িয়া কলেজে অধ্যাপনা করেন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকায় স্থিত হওয়ার জন্য ঢাকায় বিভিন্ন খবরের কাগজে সাংবাদিকতা করেন। ১৯৮৫-১৯৮৮ সাল পর্যন্ত তিনি ভয়েজ অব জার্মানির বাংলাদেশ সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। তারপর তিনি বাংলা একাডেমিতে দীর্ঘকাল চাকুরির পর পরিচালক হিসেবে অবসর গ্রহন করেন।
তিনি একাধারে কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, শিশুসাহিত্যিক ও অনুবাদক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৪০টিরও বেশি। তাঁর মধ্যে ‘তবক দেওয়া পান’ (১৯৭৫), ‘সংগ্রামী নায়ক বঙ্গবন্ধু’ (১৯৮৩), ভালোবাসার কবিতা (১৯৮৫), প্রেমের কবিতা (১৯৮৫), ‘কেশবতী কন্যা’ (২০০০) উল্লেখযোগ্য।

সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি অসংখ্য পুরষ্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হন। তাঁর মধ্যে বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৮৭), একুশে পদক (২০১৩), আবুল হাসান স্মৃতি পুরস্কার, অগ্রনী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার, জীবনানন্দ পদক, অতীশ দীপঙ্কর স্বর্ণপদক, বঙ্গবন্ধু সম্মাননা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
কবি আসাদ চৌধুরী বাংলাদেশের প্রধান কবিদের অন্যতম। তাঁর আকর্ষণীয় বাচনভঙ্গী, টেলিভিশনে জনপ্রিয় সব অনুষ্ঠান পরিকল্পনা ও উপস্থাপনার জন্যও বিশেষভাবে পরিচিত।