
ফাহিম শাহরিয়ার রুমি: ভারতীয় চলচ্চিত্রে এমন অভিনেতার সংখ্যা খুব বেশি নয়, যিনি একই দক্ষতায় দর্শককে হাসাতে, ভয় দেখাতে এবং আবেগাপ্লুত করতে পারেন। সেই বিরল শিল্পীদের অন্যতম হলেন পরেশ রাওয়াল। আজ তাঁর জন্মদিন। প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি হিন্দি চলচ্চিত্রে এমন সব চরিত্র উপহার দিয়েছেন, যা ভারতীয় জনপ্রিয় সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে।
১৯৫৫ সালের ৩০ মে ভারতের মুম্বাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন পরেশ রাওয়াল। নরসি মনজি কলেজ অব কমার্স অ্যান্ড ইকোনমিকস থেকে পড়াশোনা শেষ করে অভিনয়জগতে প্রবেশ করেন। আশির দশকের শুরু থেকে চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করলেও নব্বইয়ের দশকে এসে তিনি শক্তিশালী চরিত্রাভিনেতা ও খলনায়ক হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
পরেশ রাওয়ালের অভিনয়জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তাঁর বহুমাত্রিকতা। একদিকে তিনি যেমন Sir, Woh Chokri, Sardar কিংবা Tamanna-এর মতো চলচ্চিত্রে গভীর ও সংবেদনশীল অভিনয় করেছেন, অন্যদিকে Hera Pheri, Hungama, Malamaal Weekly, Bhagam Bhag এবং Garam Masala-এর মতো কমেডি চলচ্চিত্রে অসাধারণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। বিশেষ করে Hera Pheri ছবির বাবুরাও গণপত্রাও আপ্তে চরিত্রটি ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় কমেডি চরিত্র হিসেবে বিবেচিত হয়।
নব্বইয়ের দশকে খলনায়ক চরিত্রে তাঁর অভিনয় ছিল সমানভাবে প্রশংসিত। Sir চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার লাভ করেন এবং Woh Chokri ও Sir—এই দুটি ছবিতে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা পার্শ্ব অভিনেতার সম্মান অর্জন করেন। পরে Vallabhbhai Patel-এর জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র Sardar-এ কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশংসা কুড়ান।
দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করা এই শিল্পী অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র প্রযোজক এবং রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন। ২০১৪ সালে ভারত সরকার তাঁকে দেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান Padma Shri প্রদান করে। একই বছর তিনি লোকসভা সদস্য হিসেবেও নির্বাচিত হন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও তাঁর অভিনয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। Sanju, Sharmaji Namkeen, The Storyteller এবং Sarfira-এর মতো চলচ্চিত্রে তিনি নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছেও নিজের অভিনয়শক্তির প্রমাণ দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের বিভিন্ন আলোচনায় পরেশ রাওয়ালকে প্রায়ই “ভারতীয় সিনেমার সবচেয়ে বহুমুখী চরিত্রাভিনেতাদের একজন” হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তাঁর অভিনীত বাবুরাও, তেজা, রাধেশ্যাম তিওয়ারি কিংবা কানজি লাল মেহতার মতো চরিত্রগুলো এখনও দর্শকের স্মৃতিতে অমলিন।
জন্মদিনে পরেশ রাওয়ালের প্রতি রইল শুভেচ্ছা। ভারতীয় চলচ্চিত্রের পর্দায় তাঁর অসামান্য উপস্থিতি, সংলাপ বলার স্বতন্ত্র ভঙ্গি এবং চরিত্রের ভেতরে ঢুকে যাওয়ার ক্ষমতা তাঁকে সমসাময়িক অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে এক বিশেষ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।