
ফাহিম শাহরিয়ার রুমি: বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে এমন অনেক শিল্পী আছেন, যাঁদের অবদান অসামান্য হলেও তাঁরা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে খুব কমই এসেছেন। তাঁদেরই একজন ছিলেন রহিমা খাতুন। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে বাংলা চলচ্চিত্রের এই নিবেদিতপ্রাণ শিল্পীকে, যিনি দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে অসংখ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকের ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন।
রহিমা খাতুন চলচ্চিত্র জগতে “রহিমা খালা” নামেই অধিক পরিচিত ছিলেন। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, তিনি ১৯১৫ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের হুগলি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। অভিনয় জীবনের শুরু হয় কলকাতার মঞ্চনাটকের মাধ্যমে। পরবর্তীতে তিনি পূর্ব পাকিস্তান এবং স্বাধীন বাংলাদেশে চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ওঠেন এবং ধীরে ধীরে চরিত্রাভিনয়ের এক পরিচিত মুখে পরিণত হন।
বাংলা চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগে তিনি মায়ের চরিত্র, দাদির চরিত্র, গ্রামীণ নারীর চরিত্র কিংবা পারিবারিক নাটকের নানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করেন। তাঁর অভিনয়ে ছিল স্বাভাবিকতা, আন্তরিকতা এবং জীবনঘনিষ্ঠ আবেগ। দর্শক তাঁকে পর্দায় দেখলে যেন পরিবারেরই একজন সদস্যকে দেখতে পেতেন।
রহিমা খাতুন অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে— তিতাস একটি নদীর নাম, রূপবান, সুজন সখি, ভাইবোন, মধুমালা, রাখাল বন্ধু, আকাশ আর মাটি, কাগজের নৌকা, জয় বাংলা, চোরাবালি, মায়ার সংসার প্রভৃতি। তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্রের সংখ্যা শতাধিক বলে বিভিন্ন চলচ্চিত্র-সংক্রান্ত সূত্রে উল্লেখ পাওয়া যায়।
যে সময়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প গড়ে উঠছিল, সে সময়কার অনেক জনপ্রিয় নায়ক-নায়িকার সঙ্গে তিনি কাজ করেছেন। প্রধান চরিত্রে অভিনয় না করেও তিনি চলচ্চিত্রের কাহিনিকে শক্তিশালী করে তুলতেন। চরিত্রাভিনেত্রী হিসেবে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল অসাধারণ।
আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তাঁর অবদান নতুন করে স্মরণ করার প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই হয়তো তাঁর নাম জানেন না, কিন্তু বাংলাদেশের ক্লাসিক চলচ্চিত্রের দর্শকদের কাছে তিনি এক পরিচিত মুখ। তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলো এখনও বাংলা চলচ্চিত্রের ঐতিহ্যের অংশ হয়ে আছে।
রহিমা খাতুনের মতো শিল্পীরা প্রমাণ করে গেছেন যে চলচ্চিত্র শুধু নায়ক-নায়িকার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না; বরং অসংখ্য চরিত্রাভিনেতার শ্রম, মেধা ও নিষ্ঠার সমন্বয়েই একটি চলচ্চিত্র পূর্ণতা পায়। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। তাঁর স্মৃতি বাংলা চলচ্চিত্রপ্রেমীদের হৃদয়ে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে।