1. abdullah53024@gmail.com : Md Abdullah : Md Abdullah
  2. admin@sotterdorpon24.com : admin : Sotter Dorpon
  3. sotterdorpon24@gmail.com : Sazzad SD : Sazzad SD
জলাভূমি নির্ভর প্রাণী অভয়ারণ্য’ ঘোষিত বিলকুমারি-বিলজোয়ানার কার্যকর সুরক্ষার দাবি - দৈনিক সত্যের দর্পণ জলাভূমি নির্ভর প্রাণী অভয়ারণ্য’ ঘোষিত বিলকুমারি-বিলজোয়ানার কার্যকর সুরক্ষার দাবি - দৈনিক সত্যের দর্পণ
শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৯ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি :
বাংলাদেশের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল দৈনিক সত্যোর দর্পণ পত্রিকার পক্ষ থেকে দেশ বাসিকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।“ সত্য প্রকাশে অবিচল” এই স্লোগানকে বুকে ধারন করে আমাদের পথ চলা, আপনার আশে-পাশে ঘটে যাওয়া ঘটনা খবরের পিছনের খবর সবার আগে দেশ-বাসিকে জানাতে আমাদের ই-মেইল করুন, আমরা তার সতত্য যাচাই করে প্রকাশ করব। যোগাযোগঃ মোবাইল: +৮৮ ০১৭৫৫-৪১৬২৬২ ই-মেইল: sotterdorpon24@gmail.com

জলাভূমি নির্ভর প্রাণী অভয়ারণ্য’ ঘোষিত বিলকুমারি-বিলজোয়ানার কার্যকর সুরক্ষার দাবি

সত্যের দর্পণ ডেস্ক
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬
  • ২৭০ Time View
জলাভূমি নির্ভর প্রাণী অভয়ারণ্য’ ঘোষিত বিলকুমারি-বিলজোয়ানার কার্যকর সুরক্ষার দাবি

রুহুল আমিন খন্দকার, বিশেষ প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিলকুমারি-বিলজোয়ানা, যা সরকারিভাবে গত বছরের ৭ই মে ‘জলাভূমি নির্ভর প্রাণী অভয়ারণ্য’ হিসেবে ঘোষিত হয়েছে, সেই সংরক্ষিত এলাকার কার্যকর ব্যবস্থাপনা, আইনের বাস্তবায়ন এবং জলজ প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষার দাবিতে আজ ২৮ জুলাই (মঙ্গলবার) বিকেলে তানোর উপজেলার গোকুল-মথুরা গ্রামের বিলপাড়ে জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজিনাস নলেজ (বারসিক), গ্রীণ কোয়ালিশন এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত জনসমাবেশে পরিবেশবিদ, কৃষক, মৎস্যজীবী, যুব প্রতিনিধি, গবেষক, শিক্ষার্থী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও পরিবেশ আন্দোলনকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিলকুমারি-বিলজোয়ানা উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিঠাপানির জলাভূমি। এটি দেশীয় মাছ, জলচর পাখি, উভচর প্রাণী, সরীসৃপ, জলজ উদ্ভিদ এবং অসংখ্য জলজ জীবের নিরাপদ আবাসস্থল। একই সঙ্গে বিলটি ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ, কৃষি উৎপাদন, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং স্থানীয় জনগণের জীবন-জীবিকার সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। তাই এই বিলের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা শুধু পরিবেশগত দায়িত্ব নয়, টেকসই উন্নয়নেরও অপরিহার্য শর্ত।

বক্তারা বলেন, সরকার বিলকুমারি-বিলজোয়ানাকে ‘জলাভূমি নির্ভর প্রাণী অভয়ারণ্য’ ঘোষণা করলেও মাঠপর্যায়ে এর কার্যকর বাস্তবায়ন এখনও দৃশ্যমান নয়। জীববৈচিত্র্য আইন, ২০১৭ এবং সংশ্লিষ্ট পরিবেশ ও মৎস্য আইন অনুযায়ী সংরক্ষিত এলাকার সীমানা নির্ধারণ, সমন্বিত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন, নিয়মিত জীববৈচিত্র্য পর্যবেক্ষণ, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর নজরদারি ও আইন প্রয়োগ জরুরি।

জনসমাবেশে আরো বলা হয়, “বিলের জলজ প্রাণবৈচিত্র্যে জন্য বর্তমানে সবচেয়ে বড় হুমকি হলো- চায়না দুয়ারি (মশারি) জাল, কারেন্ট জাল, বিষটোপ এবং বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ শিকার। এসব ধ্বংসাত্মক পদ্ধতিতে শুধু বড় মাছ নয়, মাছের ডিম, পোনা ও অন্যান্য জলজ প্রাণীও নির্বিচারে ধ্বংস হচ্ছে। পাশাপাশি বিলসংলগ্ন কৃষিজমিতে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার বৃষ্টির পানি ও সেচের মাধ্যমে বিলে প্রবেশ করে দেশীয় মাছ, ব্যাঙ, শামুক, জলজ পোকামাকড় এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এর ফলে দেশী কৈ, শিং, মাগুর, টেংরা, পুঁটি, টাকি, গজার, পাতাশি, ভেদা, খলিসাসহ বহু দেশীয় মাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে।

এ সময় বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার ও কৃষিবিদ অমৃত সরকার বলেন, “বিলকুমারি-বিলজোয়ানাকে ‘জলাভূমি নির্ভর প্রাণী অভয়ারণ্য’ ঘোষণা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এখন প্রয়োজন আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন, অবৈধ মাছ শিকার বন্ধ এবং কীটনাশক দূষণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বিলের প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ।” জেলে আবু সামাদ বলেন, “চায়না দুয়ারি জাল, কারেন্ট জাল, বিষটোপ ও বৈদ্যুতিক শকে মাছ শিকারের কারণে দেশীয় মাছ দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। বিল বাঁচলে জেলে বাঁচবে, তাই এসব অবৈধ পদ্ধতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। বাজারে চায়না দুয়ারি জালের সরবরাহ বন্ধ করতে হবে তাহলেই এই জালের ব্যবহার বন্ধ হবে।”

পরিবেশ আন্দোলনকর্মী ও বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি মো. আতিকুর রহমান আতিক বলেন, “সংরক্ষিত এলাকার ঘোষণা কেবল কাগজে নয়, বাস্তবেও কার্যকর হতে হবে। চায়না দুয়ারি জাল, কারেন্ট জাল, বিষটোপ, বৈদ্যুতিক শকে মাছ শিকার এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশকের ব্যবহার বন্ধ করে বিলকুমারি-বিলজোয়ানাকে উত্তরাঞ্চলের জলাভূমি সংরক্ষণের একটি মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।”

স্বপ্নচারী সমাজ উন্নয়ন সংস্থার সভপতি রুবেল হোসেন মিন্টু বলেন, “প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষা শুধু পরিবেশের বিষয় নয়, এটি আমাদের ভবিষ্যতের প্রশ্ন। সংরক্ষিত এলাকার আইন বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তরুণদের সচেতনতা ও আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।”

এগ্রোইকোলজি চর্চাকারী কৃষক হারুনুর রশিদ বলেন, “বিলের প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষা পেলে কৃষিও টিকে থাকবে। নিরাপদ ও এগ্রোইকোলজিভিত্তিক কৃষি চর্চার মাধ্যমে বিল, মানুষ এবং প্রকৃতি সবকেই একসঙ্গে রক্ষা করা সম্ভব।”

জনসমাবেশ থেকে উত্থাপিত দাবিসমূহ : ‘জলাভূমি নির্ভর প্রাণী অভয়ারণ্য’ এলাকা ঘোষণার সকল আইনি বিধান দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে; বিলকুমারি-বিলজোয়ানার জন্য সমন্বিত সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে, চায়না দুয়ারি জাল, কারেন্ট জাল, বিষটোপ ও বৈদ্যুতিক শকে মাছ শিকার সম্পূর্ণ বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে; বিলসংলগ্ন এলাকায় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে এগ্রোইকোলজিভিত্তিক কৃষি সম্প্রসারণ করতে হবে, দেশীয় মাছের প্রজনন ক্ষেত্র, জলজ উদ্ভিদ এবং জলচর প্রাণীর আবাসস্থল সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার করতে হবে, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন এবং বিলের প্রাণবৈচিত্র্যের নিয়মিত বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। বিলের দখল, ভরাট, দূষণ এবং প্রাকৃতিক পানি প্রবাহে সকল ধরনের বাধা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

জলাভূমি নির্ভর প্রাণী অভয়ারণ্য’ ঘোষিত বিলকুমারি-বিলজোয়ানার কার্যকর সুরক্ষার দাবি

জনসমাবেশ থেকে অংশগ্রহণ কারীরা পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, মৎস্য অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের প্রতি বিলকুমারি-বিলজোয়ানার ‘জলাভূমি নির্ভর প্রাণী অভয়ারণ্য’ এলাকা হিসেবে ঘোষিত আইনি মর্যাদা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন, অবৈধ মাছ শিকার বন্ধ, কীটনাশক দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে একটি দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার আহ্বান জানান। বিলকুমারি-বিলজোয়ানা রক্ষা মানেই প্রাণবৈচিত্র্য, খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2023 Daily Sotter Darpan
Theme Customized BY WooHostBD