
, ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি।
যশোরের ঝিকরগাছা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে চাঞ্চল্যকর জাল-জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ভূপালি সরকার জেলা প্রশাসকের দিয়া একটি তদন্ত করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে চাঞ্চল্যকর জালজালিয়াতি ও দুর্নীতির এই ঘটনা।
এসময় জালজালিয়াতির দায়ে অভিযুক্ত জালিয়াত চক্রের মূলহোতা দলিল লেখক (মহরার ) মনসুর আলীকে (৬০) আটক ও তার হেফাজতে থাকা ‘ ঝিকরগাছা শ্রমজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদকের নামের দুটিসহ উল্লেখিত সমিতির লোগো সম্বলিত একটি গোলসীল উদ্ধার করেন। মনসুর আলী যার মহরার লাইসেন্স নং ৪২।
যশোর জেলা প্রশাসকের নির্দেশিত একটি জালজালিয়াতির অভিযোগের তদন্ত নেমে তদন্ত কমিটির প্রধান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভূপালী সরকার অভিযুক্ত মনসুর আলীকে আলামতসহ হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হন। এসময় অন্য অভিযুক্তরা সুযোগ বুঝে গাঢাকা দেন বলে অভিযোগ।
ঝিকরগাছা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অনিয়ম- দুর্নীতির তদন্তে নেমে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর এই জালজালিয়াতি ও দুর্নীতির একাধিক চমকপ্রদ ঘটনা রয়েছে।
বুধবার (৭মে) দুপুরে আকস্মিক এই অভিযানে নামেন ঝিকরগাছাউপজেলা নির্বাহী অফিসার। এসময় আলোচিত সমালোচিত সৃষ্ট ওই দলিলের রেজিস্ট্রি সম্পাদনকারী সাব রেজিস্ট্রি অফিসের সাবরেজিস্টার মোহাম্মদ শাহিন আলম অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনে এদিন তিনি মনিরামপুর উপজেলা সাব রেজিস্ট্রি অফিসের দায়িত্বে ছিলেন বলে জানা গেছে।
তদন্তকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাব রেজিস্টার এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ থাকায় উস্মাপ্রকাশ করে সাংবাদিকদের বলেন, তদন্তের বিষয়টি হয়তো তিনি জেনে ফেলেছেন! অভিযান চলাকালে পৃথক দলিলের ঘটনায় অভিযুক্ত মহরার সন্তোষ সরকার ও তার সহযোগী হাফিজুর রহমান, কম্পিউটার অপারেটর গাঢাকা দিয়েছেন।
ঝিকরগাছাউপজেলা নির্বাহী অফিসার জানিয়েছেন, অভিযোগের সূত্র ধরে আলোচিত একটি দলিল সম্পাদনের আগে অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি অনিবন্ধিত সমবায় সমিতির নামে নিজ হাতে লিখিত ভুয়া রেজুলেশন, সভাপতি,সম্পাদকের স্বাক্ষর জাল করে নামজারির আবেদন করার ঘটনা প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।
এই ঘটনায় সৃষ্ট দলিলের দাতা, গ্রহিতা, সাক্ষী ও সনাক্তকারীসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ঝিকরগাছা সদর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা পারভিন আক্তারকে নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছি।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের তদন্ত ও এর আগে স্থানীয়দের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঝিকরগাছা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ আলোচিত ও বিতর্কিত ওই সম্পত্তির মালিকানা বিষয়ে সরেজমিন তথ্য সংগ্রহ করেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়াই এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভূপালী সরকার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ারকে অবহিত করেন।
এদিকে অতিসাম্প্রতিক সময়ে বহুলোলোচিত একটি সরকারি খাসজমি ( ঝিকরগাছা ১ নং কাঁটাখাল কলোনি)র ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তি ঝিকরগাছা শ্রমজীবী সমবায় সমিতির মালিকানা দেখিয়ে ঝিকরগাছা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রেশন সম্পাদিত হয়।
এই ঘটনা জানাজানির পর ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টির পাশাপাশি দারুনচাঞ্চল্য সৃষ্টি করে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, রেজিস্ট্রেশন সম্পাদনের পর বহুলালোচিত ও বিতর্কিত ওই সম্পত্তির ক্রেতা পক্ষ দলিলটি নামজারি/ নামপত্তন করতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে আবেদন করেন। কিন্তু, দলিলের তথ্যগত ত্রুটি ও সন্দেহজনক হওয়ায় সহকারি কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার সৃষ্ট দলিলটির নামজারি স্থগিত রাখেন। শুধু তাই নয়, নামজারির আবেদনের দাখিলকৃত পৃথক সাতটি দলিলে ধারাবাহিক মালিকানার ক্ষেত্রে অসংগতি, স্পষ্টতা, কাটাছেঁড়া বা টেম্পারিং, ওভার রাইটিং ও অসম্পূর্ণ থাকায় এসব দলিলের নামজারি / মিউটেশন আটকে দিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার। বিষয়টি তিনি নিজেই নিশ্চিত করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অভিযান চলাকালে এ সময় তার সাথে সরকারি কর্মকর্তা,সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, নকল নবিশ, দলিল লেখক সমিতির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও মহরারসহ গণমাধ্যম কর্মীবৃন্দ। তদন্ত চলাকালে ঝিকরগাছা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, মোঃ শরিফুল হাসান, শেখ মোঃ জহুরুল ইসলাম, মহিদুল ইসলাম, সোহরাব হোসেন,মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম, মোঃ শওকত আলী, তৌহিদুর রহমানসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
জানতে চাইলে উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আকবর আলি বলেন বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায়এ বিষয়ে তার কোন বক্তব্য নেই।