
ঝিকরগাছায় ১৭অভিযোগকারীর অভিযোগ প্রত্যাহার। দু’টি কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত স্থগিত
আতাউর রহমান জসি ঝিকরগাছা (যশোর) থেকে: যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় খাদ্যবান্ধব ডিলার নিয়োগে দুর্নীতি,অস্বচ্ছতা ও অনিয়মের কথিত অভিযোগে দায়েরকৃত ১৭জন অভিযোগকারী ভুল স্বীকার করে তাদের অভিযোগ স্বেচ্ছায় লিখিত অঙ্গীকারের মাধ্যমে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তার ফলে, কোন অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় পূর্বেরঘোষিত ডিলারশিপ বহাল রাখার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। ডিলার নিয়োগ কমিটি দুটি কেন্দ্রের ডিলার নিয়োগের সিদ্ধান্ত আপাত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এ দুটি কেন্দ্র হলো, ঝিকরগাছা পৌরসদর উপজেলা মোড় (ওএমএস) ও ঝিকরগাছা সদর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর কেন্দ্র (খাদ্যবান্ধব)। উপজেলা খাদ্যবান্ধব কমিটির সভাপতি ও ঝিকরগাছা উপজেলানির্বাহী অফিসার ভুপালি সরকার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বুধবার (২০আগস্ট) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভুপালি সরকারের অফিস কক্ষে অভিযোগকারীদের লিখিত আবেদনের উপর পৃথক পৃথক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।নীতিমালার আলোকে আইনি ব্যাখ্যা,যুক্তিতর্ক ও আলোচনা- পর্যালোচনা শেষে পূর্বঘোষিত ডিলারদের ডিলারশিপ বহাল রাখা হয়। ডিলার নিয়োগ সংক্রান্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিরূপমন্তব্য ও নিন্দনীয় সমালোচনা করে স্ট্যাটাস দেয়া কীর্তিপুর কেন্দ্রের ডিলার নিয়োগ প্রত্যাশী নাফিম ইসলাম নামে জনৈক অভিযোগকারী তার অভিযোগটি প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়ে তার প্রতিনিধির মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত আবেদনে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমাপ্রার্থনা করেন। লিখিত অভিযোগের উপর শুনানি চলাকালে তদন্ত কমিটির আহবায়ক ঝিকরগাছা ঝিকরগাছা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক নাভিদ সারওয়ার,উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার মাসুমা আক্তার, সমাজসেবা অফিসার মেজবাহ উদ্দিন, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা অনিতা মল্লিক, উপজেলা আইসিটি অফিসার অহিদুল ইসলাম, সার ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আসুজ্জামান খান রনি, প্রেসক্লাব সভাপতি রফিকুল ইসলাম, ছাত্র প্রতিনিধি আখি খাতুন, মাহমুদ হাসান ও আসলাম উদ্দিন রবিনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য ঝিকরগাছা উপজেলা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ডিলার নিয়োগের ঘোষণা দেয় উপজেলা প্রশাসন। এক্ষেত্রে ডিলার নিয়োগ প্রত্যাশী বিপুল সংখ্যক আবেদনকারী আবেদন পত্র জমা দেন। কিন্তু, নীতিমালার আলোকে বেশিরভাগ ডিলার নিয়োগ প্রত্যাশীর আবেদন পত্রসহ প্রমাণক কাগজপত্রাদি যাচাই-বাছাই কমিটি কর্তৃক অস্বচ্ছ,ত্রুটিপূর্ণ,বিতর্কিত ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় তা বাতিল বলে গণ্য হয়। একেকটি কেন্দ্রে একাধিক নিয়োগ প্রত্যাশী হওয়ায় লটারির মাধ্যমে ডিলার নিয়োগ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় । কিন্তু, যাচাই-বাছাই ও লটারির অস্বচ্ছতার লিখিত অভিযোগ করেন সংক্ষুব্ধ একাধিক ব্যক্তি। এরই প্রেক্ষিতে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে মাঠ পর্যায়ে ফের তদন্তের নির্দেশনা দেয়া হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ডিলারশীপ বাতিল করার পাশাপাশি পুনরায় নতুন ডিলার নিয়োগে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। একই সাথে দুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত না হলে,কমিটিকে বিতর্কিত করতে ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। ১৯টি কেন্দ্রে কথিত অনিয়ম-অস্বচ্ছতার বিরুদ্ধে ৩৫জন আবেদনকারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা খাদ্যবান্ধব কমিটির সভাপতির নিকট এই অভিযোগ করেন। অভিযোগ ওঠা কেন্দ্রগুলো হলো,ঝিকরগাছা পৌরসভার কীর্তিপুর, গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের আটুলিয়া বাজার কেন্দ্র ও গুলবাগপুর। মাগুরা ইউনিয়নের মিশ্রিদেয়াড়া কেন্দ্র। শিমুলিয়া ইউনিয়নের ধানপোতা কেন্দ্র, পানিসারা ইউনিয়নের পানিসারা ও মোহিনীকাটি কেন্দ্র।ঝিকরগাছা ইউনিয়নের লাউজানি ও লক্ষ্মীপুর কেন্দ্র।হাজীরবাগ ইউনিয়নের দেউলী ও রায়পটন এবং বাকড়া ইউনিয়নের বাঁকড়া কেন্দ্র।