1. abdullah53024@gmail.com : Md Abdullah : Md Abdullah
  2. admin@sotterdorpon24.com : admin : Sotter Dorpon
  3. sotterdorpon24@gmail.com : Sazzad SD : Sazzad SD
চলচ্চিত্রের নীরব স্থপতি — শেখ নিয়ামত আলীর জন্মদিনে স্মরণ - দৈনিক সত্যের দর্পণ চলচ্চিত্রের নীরব স্থপতি — শেখ নিয়ামত আলীর জন্মদিনে স্মরণ - দৈনিক সত্যের দর্পণ
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৯ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি :
বাংলাদেশের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল দৈনিক সত্যোর দর্পণ পত্রিকার পক্ষ থেকে দেশ বাসিকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।“ সত্য প্রকাশে অবিচল” এই স্লোগানকে বুকে ধারন করে আমাদের পথ চলা, আপনার আশে-পাশে ঘটে যাওয়া ঘটনা খবরের পিছনের খবর সবার আগে দেশ-বাসিকে জানাতে আমাদের ই-মেইল করুন, আমরা তার সতত্য যাচাই করে প্রকাশ করব। যোগাযোগঃ মোবাইল: +৮৮ ০১৭৫৫-৪১৬২৬২ ই-মেইল: sotterdorpon24@gmail.com

চলচ্চিত্রের নীরব স্থপতি — শেখ নিয়ামত আলীর জন্মদিনে স্মরণ

সত্যের দর্পণ ডেস্ক
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫৭৫ Time View
চলচ্চিত্রের নীরব স্থপতি — শেখ নিয়ামত আলীর জন্মদিনে স্মরণ

ফাহিম শাহরিয়ার রুমি: বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে কিছু নির্মাতা আছেন, যাঁরা সংখ্যায় কম কাজ করেও শিল্পের মান নির্ধারণ করে গেছেন। তেমনই এক নির্মাতা হলেন শেখ নিয়ামত আলী—বাংলাদেশের চলচ্চিত্র আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ নাম। তাঁর জন্মদিন ৩০ এপ্রিল, যা বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য এক বিশেষ স্মরণীয় দিন।

জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবন:
১৯৪০ সালের ৩০ এপ্রিল ব্রিটিশ ভারতের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন শেখ নিয়ামত আলী। পরবর্তীতে তিনি University of Calcutta-তে পড়াশোনা করেন এবং ছাত্রজীবনেই চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। এই আন্দোলনই তাঁর চলচ্চিত্রচিন্তার ভিত গড়ে দেয়। ঢাকায় এসে তিনি চলচ্চিত্র নিয়ে লেখালেখি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হন—যা তাঁকে ধীরে ধীরে চলচ্চিত্র নির্মাণের দিকে নিয়ে যায়।

চলচ্চিত্রজীবন ও সৃষ্টিশীলতা:
শেখ নিয়ামত আলীর চলচ্চিত্রজীবন শুরু হয় এক ঐতিহাসিক কাজের মাধ্যমে—সূর্য দীঘল বাড়ি (১৯৭৯)। যৌথ পরিচালক মসিহউদ্দিন শাকেরের সঙ্গে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি আবু ইসহাকের উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি। এটি ছিল বাংলাদেশের সরকারি অনুদানে নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র এবং আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক প্রশংসা লাভ করে। এরপর তিনি নির্মাণ করেন—দহন (১৯৮৫), অন্য জীবন (১৯৯৫)। এই তিনটি চলচ্চিত্রেই তিনি সমাজবাস্তবতা, মানবিক সংকট ও গ্রামীণ জীবনের গভীরতা তুলে ধরেছেন। বিশেষভাবে দহন চলচ্চিত্রটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ একাধিক পুরস্কার অর্জন করে।

পুরস্কার ও স্বীকৃতি:
শেখ নিয়ামত আলী তাঁর নির্মিত মাত্র তিনটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের জন্যই তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ পরিচালকের সম্মান অর্জন করেন—১৯৭৯, ১৯৮৫ ও
১৯৯৫। এটি তাঁর অসামান্য সৃজনশীলতার প্রমাণ, যেখানে সংখ্যা নয়—মানই হয়ে ওঠে তাঁর পরিচয়।

শিল্পভাবনা ও অবদান:
শেখ নিয়ামত আলীর চলচ্চিত্রে সাহিত্য ও বাস্তবতার মেলবন্ধন বিশেষভাবে লক্ষণীয়। তাঁর কাজগুলো শুধু গল্প নয়—সময়ের দলিল। গ্রামীণ জীবন, দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য—এসব বিষয় তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে তুলে ধরেছেন।

চলচ্চিত্রের নীরব স্থপতি — শেখ নিয়ামত আলীর জন্মদিনে স্মরণ

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে সাহিত্যভিত্তিক গল্পচিত্র নির্মাণের ধারাকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।

মৃত্যু ও উত্তরাধিকার:
২০০৩ সালের ২৪ নভেম্বর ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো আজও বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়।

শেষ কথা:
শেখ নিয়ামত আলী এমন এক নির্মাতা, যিনি খুব কম কাজ করেও বাংলা চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁর চলচ্চিত্রগুলো যেন একেকটি জীবন্ত দলিল—সমাজ, মানুষ ও সময়ের।

জন্মদিনে তাঁকে স্মরণ করা মানে শুধু একজন পরিচালককে স্মরণ করা নয়—বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের এক গভীর, শিল্পসম্মত অধ্যায়কে পুনরায় পাঠ করা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2023 Daily Sotter Darpan
Theme Customized BY WooHostBD