
ঝিকরগাছায়বেনিয়ালি কলোনী পাড়ায় মিথ্যা মামলারপ্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকলিপি প্রদান
ঝিকরগাছা(যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের ঝিকরগাছায় কথিত শ্লীলতাহানির ঘটনায় চার ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করার প্রতিবাদে অভিযুক্তদের পরিবার ও গ্রামবাসী ঝিকরগাছা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে ঘটনাটি সাজানো, মিথ্যা, বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক আখ্যায়িত করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে গত( ১৮জুলাই) শুক্রবার দিবাগত সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার গদখালী ইউনিয়নের বেনিয়ালি কলোনিপাড়া গ্রামে। ঝিকরগাছা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গ্রামবাসীর পক্ষে মিন্টু মিয়া লিখিত বক্তব্যে বলেন।ঘটনার দিন বেনেয়ালি কলোনি মহল্লার সামনে ‘যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক’ সংলগ্ন স্থানে স্থানীয় ৫/৭ জন উচ্চস্বরে কথাবার্তা ও জটলা দেখতে পায়।
এই ঘটনায় মহল্লার মানুষজন ঘটনাস্থলে এসে জানতে পারে পাকা সড়ক থেকে আনুমানিক ২/৩’শ গজ দূরত্বে অবস্থিত রতন মিয়ার পাটক্ষেতে আমাদের নিকট প্রতিবেশি জুয়েল রানা ও তার দীর্ঘদিনের পরকীয়া প্রেমিক ও তিনসন্তানের জননী সিদ্দিকের স্ত্রী শাহানারা ওরফে চ্যানু বেগম (৪৫) অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকায় হাতেনাতে ধরা পড়ে এবংমারপিটের শিকার হয়।স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে ধূর্ত শহানারা ওরফে চ্যানু বেগম কৌশলে পালিয়ে যায় ।
এমতাবস্থায় কৌতূহলী অন্যান্য এলাকার প্রতিবেশিরা সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে অনৈতিক কাজে জড়িত মৃত হযরত আলীর ছেলে জুয়েল রানার আপন ভাগ্নী সুমাইয়া খাতুন ওরফে জ্যোতি।
সে নিজের মামাকে গণপিটুনির হাত থেকে রক্ষা করতে ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে ঘটনাস্থল থেকে জরুরী পুলিশি সেবা-৯৯৯-এ কল করে। সংবাদ পেয়ে ঝিকরগাছা থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত জুয়েল রানা, ভাগ্নী সুমাইয়া খাতুন ও জুয়েল রানার বোন বেবি বেগমকে থানা হেফাজতে নেয়।
এদিকেরাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার সময় গ্রামবাসি কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই পুলিশ মোঃ আলামিন (২৫), বোরহান (১৯) ও নাহিদ হোসেন (২০) তিন জনকে তাদের নিজ বাড়ি থেকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে থানায় নিয়ে আসে।
ঘটনার রাতেই তিন পরিবারের অভিভাবকদের ঘটনার মিমাংসার কথা বলে ঝিকরগাছা থানায় আসতে বলে। এক পর্যায়ে গভীর রাত পর্যন্ত থানায় বসিয়ে রেখে পুলিশ পরদিন সকালে ফের থানায় আসতে বলেন।
তারপর দিনসকালে থানায় এসে তারা জানতে পারেন ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে নিরিহ ও নিরাপরাধ ৪জনকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ তৎসহ ৩৪১, ৩২৩, ৩২৫, ৩০৭, ৩৭৯ ও ৫০৬ যৌন নিপিড়ন প্রতিরোধ করতঃ হত্যার উদ্দেশ্যে গুরুতর জখম, চুরি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন অপরাধ আইনে মামলা রুজু করে। মামলা নং ১৬, তাং ১৮ সংবাদ সম্মেলনে মামলাটি ষড়যন্ত্রমূলক ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত দাবি করে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং।
উল্লেখ্য স্মারকলিপি প্রদানকালে এবং ঝিকরগাছা প্রেসক্লাব কার্যালয় আয়োজিত জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্তদের পিতা-মাতা আত্মীয়স্বজনসহ সর্বস্থরের গ্রামবাসি ছাড়াও কথিত এই মামলার বাদী বেবি বেগমের আপন শ্বশুর রওশন আলী (৬৫), আপন ফুফা সিরাজুল ইসলাম ওরফে সিরাজ (৬২), আপন মামা টিপু সুলতান ওরফে টিপু (৩৫) অপর আপন খালাত ভাই আবু জাফর (২৫), আপন ফুফু জহুরা বেগম (৫৫) উপস্থিত থেকে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের মূল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।তারা পরিবারটিকে চরম অসামাজিক ও মামলাবাজ আখ্যায়িত করে অভিযুক্তদের নির্দোষ দাবি করেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, ওই পরিবারটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে নারী নির্যাতন, শীলতাহানি ও ধর্ষণের মতো জঘন্যতম ও গুরুতর মিথ্যা-বানোয়াট অভিযোগ তুলে অর্থ দাবি করে থাকে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে নিরপরাধ মানুষকে মামলায় ফাঁসিয়ে অবৈধ অর্থ আদায় করে থাকে বলেও নাটকীয় এই মামলার বাঁদির স্বজনদের অভিযোগ ।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই)সকাল দশটায় ভুক্তভোগীরা প্রেসক্লাব কার্যালয় সংবাদ সম্মেলন করেন। পরে ঝিকরগাছাউপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভুপালি সরকারের পক্ষে সহকারি কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার তাদের অভিযোগ মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং স্মারকলিপি গ্রহণপূর্বক ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন।