
ঝিকরগাছায় প্রতিবন্ধী মামুনহুইল চেয়ারের অভাবে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে বঞ্চিত হচ্ছে
আতাউর রহমান জসি ঝিকরগাছা (যশোর) থেকে।ঝিকরগাছা উপজেলার অদম্য মেধাবী প্রতিবন্ধির সংখ্যা কম নয়।তামান্না নূরার মত অদম্য মেধাবী প্রতিবন্ধির জন্ম এই উপজেলায়।এ জনপদের প্রত্যান্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য অদম্য মেধাবী প্রতিবন্ধি।তাদেরকে হয়ত আমরা তামান্না নূরার মত স্যোসাল মিডিয়ায় তুলে আনতে পারিনি।আজ আমি এমনই একটি মেধাবী প্রতিবন্ধির কথা তুলে ধরতে চাই ।বলছিলাম শারীরিক প্রতিবন্ধি আব্দুল্লাহ আল মামুনের কথা।মামুন শারীরিক প্রতিবন্ধি এক সুদর্শন কিশোর।দুই পায়ের একটির নীচের অংশ নেইঅন্যটির কিছু অংশ আছে। সুস্থ সবল কিশোর কিশোরী দুই হাতের দশটি আংগুল থাকলেও মামুনের আছে মাত্র চারটি।এ অবস্থায় মামুনকে অতিকষ্টে স্কুল-কলেজে যেতে হয়।সে কারণে স্বাভাবিক ভাবে স্কুল কলেজে যেতে পারে না।স্কুল কলেজে যাওয়ার একমাত্র বাহন বন্ধুর সাইকেল অথবা ভ্যান।মামুন উপজেলার গদখালী ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের (খালাশিপাড়া)আমিনুর রহমানের ছেলে।দুই ছেলের মধ্যে ছোট ছেলে মামুন জন্মগত ভাবেই শারীরিক প্রতিবন্ধি।
বেনেয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মামুনের প্রাথমিক শিক্ষার হাতে খড়ি।২০১৭ সালে এফজেইউবি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে জিপিএ ৩.৮২ পেয়ে জেএস সি, ২০২২ সালে একই স্কুল থেকে মানবিকে জিপিএ ৩.৮৮ পেয়ে এস এস সি পাশ করে।মামুন ২০২২-২৩ শিক্ষা বর্ষে শিমুলিয়া ডিগ্রী কলেজে মানবিক বিভাগে ভর্তি হয়।প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস ও অদম্য মনোবল নিয়ে চলে তার লেখাপড়া।লক্ষ্য একটাই মানুষের মত মানুষ হতে হবে । এ সকল প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে প্রবাল আগ্রহ ও ইচ্ছা তাকে এইচএসসি পাশের সফলতা এনে দিয়েছে। সে ২০২৪ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় শিমুলিয়া ডিগ্রী কলেজ থেকে জিপিএ ৩.০০ পেয়ে মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসি পাস করেছে। সরজমিনে মামুনের বাড়িতে গেলে দেখা যায় মামুন দুই হাটু ও দুই হাতে ভর দিয়ে হাঁটাচলা করছে। উচ্চ শিক্ষা করবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মামুনের স্পষ্ট উত্তর আমি নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই।পরিবার,সমাজ ও রাষ্ট্রের বোঝা হতে চাই না। তবে একটি ডিজিটাল হুইল চেয়ার হলে আমার লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া সহজ হত। আমি ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে সম্মান (অনার্স) শ্রেণীতে প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে চাই।শারীরিক অক্ষমতা কাছে সে হার মানতে নারাজ। তার মায়ের সাথে কথা হয় আমি চাই মামুন ভালোভাবে লেখাপড়া করে মানুষের মত মানুষ হয়ে তার মনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করুক। তার মা আরো বললেন অনেক কষ্ট পরিশ্রম করে সে লেখাপড়া করছে। ঠিকমত চলাফেরা করতে পারেনা। ভ্যান অথবা বন্ধুদের সাইকেলে সে স্কুল কলেজে যাতায়াত করত। তার উচ্চশিক্ষা নিয়ে খুবই দুঃশ্চিন্তায় আছি। একটি ডিজিটাল হুইল চেয়ার হলে তার চলাফেরার কষ্ট অনেকটা লাঘব হত এবং পড়ালেখা করতে সহজ হত। টেলিফোনে কথা হয় মামুনের স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও কলেজ অধ্যক্ষের সাথে, জানতে চাইলাম শারীরিক প্রতিবন্ধী আব্দুল্লাহ আল মামুন সম্পর্কে। প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে উভয়ে বললেন মামুন অত্যন্ত ভালো ছেলে ।নম্র ভদ্র শান্ত স্বভাবের জন্য সে সকলের কাছে প্রিয় পাত্র। লেখাপড়ার প্রতি তার দারুন ঝোঁক। কিন্তু প্রতিবন্ধী হওয়ায় সে খুব কষ্ট করে লেখাপড়া করছে। তার চলাচলের জন্য একটি ডিজিটাল হুইল চেয়ার হলে ভালো হতো। সর্বশেষ তার মায়ের আকুতি সরকারি বেসরকারি অথবা বিত্তবান কেউ যদি একটি ডিজিটাল হুইল চেয়ার প্রদান করত তাহলে মামুনের উচ্চ শিক্ষার প্রতিবন্ধকতা থাকত না। আমরা অসহায় প্রতিবন্ধী ছেলের পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার হাত বাড়িতেদিতে সমাজের বিত্তবান, ও মানবিক মানুষদের প্রতি অনুরোধ জানাই।