
ফাহিম শাহরিয়ার রুমি: আজ ১২ জুন। হলিউডের সোনালি যুগের শেষ ভদ্রলোক, অস্কারজয়ী অভিনেতা গ্রেগরি পেকের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৩ সালের এই দিনে লস অ্যাঞ্জেলেসের নিজ বাসায় ঘুমের মধ্যেই চলে যান তিনি। বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।
পুরো নাম এলড্রেড গ্রেগরি পেক। জন্ম ৫ এপ্রিল ১৯১৬, ক্যালিফোর্নিয়ার লা জোলায়। ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতা, গম্ভীর কণ্ঠ আর পরিমিত হাসি দিয়ে ১৯৪০ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত হলিউড শাসন করেছেন তিনি। ১৯৯৯ সালে আমেরিকান ফিল্ম ইনস্টিটিউট তাকে ক্লাসিক হলিউডের ১২তম শ্রেষ্ঠ পুরুষ তারকা হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।
পেক মানেই ছিল আদর্শবান মানুষ। পর্দায় তিনি বারবার অভিনয় করেছেন আদর্শবান, শক্তিশালী চরিত্রে। দর্শক তাকে “আমেরিকান আদর্শ নায়ক” হিসেবেই মনে রেখেছে।
১৯৪৪ সালে “Days of Glory” দিয়ে ডেবিউ। একই বছর “The Keys of the Kingdom” সিনেমায় পুরোহিতের ভূমিকায় প্রথম অস্কার মনোনয়ন পান। তার কালজয়ী সিনেমার তালিকা লম্বা: আলফ্রেড হিচককের “Spellbound” 1945, “The Yearling” 1946, “Gentleman’s Agreement” 1947, “Twelve O’Clock High” 1949, অড্রে হেপবার্নের সাথে “Roman Holiday” 1953, “Moby Dick” 1956, “The Guns of Navarone” 1961 এবং হর ক্লাসিক “The Omen” 1976। কিন্তু গ্রেগরি পেককে অমর করেছে ১৯৬২ সালের “To Kill a Mockingbird”। হার্পার লি-র উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত সিনেমায় দক্ষিণের উকিল অ্যাটিকাস ফিঞ্চের চরিত্রে অভিনয় করে সেরা অভিনেতার অস্কার জেতেন তিনি। বর্ণবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এই চরিত্র ২০০৩ সালে AFI-র জরিপে মার্কিন সিনেমার ইতিহাসের সেরা নায়ক নির্বাচিত হয়। পেক নিজে বলেছিলেন, এই চরিত্রে তিনি তার জীবনের সব অনুভূতি ঢেলে দিয়েছেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি পেক ছিলেন সক্রিয় মানবাধিকারকর্মী। ১৯৪৭ সালেই হাউজ আন-আমেরিকান অ্যাকটিভিটিস কমিটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ও বন্দুক নিয়ন্ত্রণের পক্ষে সারাজীবন লড়েছেন। ১৯৬৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান “Presidential Medal of Freedom” লাভ করেন।
দ্বিতীয় স্ত্রী ভেরোনিক পাসানির সাথে ৪৮ বছর সংসার করেছেন তিনি। ৫ সন্তানের জনক এই তারকা ২০০৩ সালের ১২ জুন স্ত্রীর হাত ধরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
চলে যাওয়ার ২৩ বছর পরও গ্রেগরি পেক “ভদ্রলোক নায়ক”-এর সংজ্ঞা হয়ে আছেন। আজকের সুপারহিরোর যুগেও অ্যাটিকাস ফিঞ্চের মতো নীরব, দৃঢ়, ন্যায়পরায়ণ চরিত্র বিরল।
মৃত্যুবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা। পর্দায় তিনি যতটা মহৎ ছিলেন, বাস্তবেও ঠিক ততটাই মানুষ ছিলেন।