
আতাউর রহমান জসি ঝিকরগাছা (যশোর) থেকে। আসন্ন তিন দিবসকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ফুলের রাজধানী খ্যাত গদখালীর হাড়িয়া ও পানি সারা মোড়ে বসবে ফুল প্রেমিকদের মিলন মেলা। আর এসব দিবস গুলোতে প্রায় শত কোটি টাকার ফুল বিক্রি হবে বলে আশাবাদী গদখালিফুল চাষী ও ফুল ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবুল খায়ের,সাধারন সম্পাদক আবু জাফর জানান।আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস (২১ ফেব্রুয়ারি) ১৪ ই ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালবাসা দিবস, ও ২৬ শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ফুল প্রেমিকদের কাছে অতি প্রয়োজনীয়। এসব দিবস ঘিরে এই অঞ্চলের ফুল চাষিরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। সমিতির কর্মকর্তারা আরোজানান স্থানীয় ফুলের চাহিদা মিটিয়ে ও দেশের প্রায় ৮০ ভাগ ফুল গদখালীর হাড়িয়া ও পানি সারা এলাকা থেকে সংগ্রহ করা হয় ।(৮ ফেব্রুয়ারি) শনিবার সকালে গদখালী বাজারে সরজমিনে যেয়ে দেখা যায় মানভেদে গোলাপ বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস ৬ টাকা থেকে সাত টাকা, জারবেরা প্রকারভেদে ১০ থেকে ১২ টাকা, রজনীগন্ধা প্রতি পিস ৪ থেকে ৫ টাকা গ্ল্যাডিওলাস ৮ থেকে ১২ টাকা, এছাড়া গাঁদা ফুল বিক্রি হচ্ছে প্রতি হাজার ৪ ০০থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত, ফুলের এমন দামে চাষিরা বেজায় খুশি। এসব এলাকায় লক্ষাধিক মানুষ তাদের জীবন জীবিকা নির্ভর করে ফুল চাষের উপর। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফুল চাষী ও ফুল ব্যবসায়ী কল্যান সমিতির সভাপতি আবুল খায়ের জানান যশোরে ফুল চাষী রয়েছে প্রায় ৭হাজার তারা ১৫ ০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রকার ফুল চাষ করেন। ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালি বাজার, হাড়িয়া, পানিসারা, নাভারন, নির্বাস খোলার মাঠে ১১ ধরনের ফুলের চাষ করা হয়। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে শোভা পাচ্ছে গ্ল্যাডিওলাস, রজনীগন্ধা, গোলাপ, জারবেরা, গাদা, জিপসি, রডসটিক, কলনডালা, চন্দ্রমল্লিকা, টিউলিপ সহ বিভিন্ন ধরনের বাহারি ফুল শোভা পাচ্ছে। এসব ফুল উৎপাদন করে সারাদেশে ফুল প্রেমিক মানুষদের মন রাঙাচ্ছেন এখানকার ফুল চাষিরা। আসন্ন দিবস গুলিতে শত কোটি টাকার ফুল বিক্রি হবে বলে তারা মনে করেন। সাম্প্রতিক শীত প্রধান দেশে টিউলিপ ফুল চাষ করে, তাক লাগিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় ফুল চাষী ইসমাইল হোসেন, তার পাঁচশত জমিতে ফুটেছে বিভিন্ন রঙের সাত প্রকারের টিউলিপ। তিনি জানান আসন্ন দিবসে এসব ফুলগুলি বিক্রি করা হবে। বিভিন্ন মাঠ ঘুরিয়ে দেখা গেছে, সামনে বিভিন্ন দিবসকে ঘিরে ফুল চাষিরা বাড়তি পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। চোখ ধাঁধানো গোলাপ বাগানে, ফুলের মাথায় সাদা ক্যাপ পরিয়ে রাখা হয়েছে। পটুয়াপাড়া গ্রামের ফুল চাষী রেজাউল ইসলাম ৪ বিঘা জমিতে গোলাপের চাষ করছেন তিনি বলেন ফুল যাতে দেরিতে ফোটে সেজন্য গোলাপের কুঁড়িতে ক্যাব পড়িয়ে রাখা হয়। তার ফলে বাতি তিন থেকে চার টাকা খরচ বেশি হয় বিশ্ব ভালবাসা দিবসকে টার্গেট করে এসব হোক বিক্রি করতে পারলে বেশি লাভ হয়। হাড়িয়া নিমতলা এলাকার ফুলচাষী রাসেল হোসেন জানান, তাদের দেড় বিঘা জমিতে ফুলের চাষ রয়েছে। বর্তমানে গোলাপ ফুলের দাম ভালো। সবমিলিয়ে এক থেকে দেড় লাখ টাকা লাভ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। এবার আবহাওয়া ভালো হওয়ায় ফুল উৎপাদন ভালো হয়েছে। এ কারণে দামও অনেক ভালো। এছাড়া কথা হয় ফুলচাষি ও সফল উদ্যোক্তা মশিউর রহমান, ফুল চাষী মনিরুল জামান, হাসেম আলী এরই মধ্যে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত ফুল প্রেমিক মানুষেরা গদখালীর হাড়িয়া, পানিসারা, বিভিন্ন পরিবহনে করে এসে ফুলের সুগন্ধিতে নিজেকে বিলিয়ে দিচ্ছন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান গদখালি, পানি সারা, হাড়িয়া, চাষিরা ফুল চাষ করে অনেকে স্বাবলম্বী হয়েছেন। গদখালী কে বলা হয় ফুলের রাজধানী। এই অঞ্চলের ফুল ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষের চাহিদা মিটাচ্ছে। ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে ফুল চাষীদের বিভিন্নভাবে সহায়তা প্রদান করা হয়ে থাকে। আরো বিভিন্ন ধরনের নতুন জাতের ফুল চাষের চেষ্টা চলছে । আমরা তাদের সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছি।
