
ঝিকরগাছা (যশোর) থেকে আতাউর রহমান জসি: যশোরের ঝিকরগাছায় বাইকুনুর আঙ্গুর চাষে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন তরুণ উদ্যোক্তা পারভেজ হোসেন। রাশিয়ান বাইকুনুর জাতের নীলাভসবুজ রঙের লোভনীয় আকর্ষণীয় আঙ্গুর থোকায় থোকায় ঝুলছে।
রাশান জাতের বাইকুনুর আঙ্গুর খেতেও বেশ সুস্বাদু-সুমিষ্ট।অপার সম্ভাবনার পালক মেলেধরায় এখন তিনি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আঙ্গুর চাষের সম্প্রসারণ ঘটাতে চাইছেন।
আগামীর সম্ভাবনার স্বপ্ন বুনছেন তরুণ উদ্যোক্তা পারভেজ।চোখে মুখে তার অনেক স্বপ্ন।
কৃষি উদ্যোক্তা সৌখিন আঙ্গুর চাষী পারভেজ হোসেন ঝিকরগাছা উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের মিশ্রিদেয়াড়া উত্তরপাড়া গ্রামের মাদ্রাসা শিক্ষক এনামুল হকের ছেলে।
তিনি যশোর সদর উপজেলার নতুনহাট পাবলিক কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির মানবিক বিভাগের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী।
সরেজমিনে দেখা যায় পারভেজ তার আঙ্গুর ক্ষেতে পরিচর্যায় ব্যস্ত। আঙ্গুর ক্ষেতেই কথা হয় এ প্রতিবেদকের। জানতে চাইলাম কার পরামর্শ বা কিভাবে আঙ্গুর চাষে আকৃষ্ট হলেন।
জানালেন,গেল নয় মাস আগে ইউটিউব এর মাধ্যমে জানতে পেরে দেশের উত্তরবঙ্গের রাজশাহী থেকে রাশান বাইকুনুর উন্নত জাতের আঙ্গুর চারা সংগ্রহ করে চাষ শুরু করি। তার বাবাও তাকে উদ্বুদ্ধ করেন বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, প্রতি পিস ৩শ টাকা দরে ৭০পিস আঙ্গুরের চারা কিনে ১০কাঠা নিজের জমিতে বীজতলা তৈরি,কংক্রিটের খুঁটি ও জিআই তারের নেট দিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী করে আঙ্গুর চারা রোপন করেন । বীজতলা তৈরির পর পরিমাণ মতো জৈব সার (গোবর) প্রয়োগ,ছত্রাকনাশক স্প্রে ও মজুর খরচ মিলিয়ে তার এ পর্যন্ত বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। বলেন ৯ মাস পরিচর্যার ফলে গাছে ফুল ও ফল আসার পর প্রথমে সবুজ, পর্যায়ক্রমে গোলাপি ও গাড়নীলাভ রং ধারণ করে বাইকুনুর জাতের সুস্বাদু পাকাআঙ্গুর।
একটি গাছ কত বছর পর্যন্ত আঙ্গুর দিতে সক্ষম এমন প্রশ্নের জবাবে পারভেজ বলেন ২০-২৫ বছর পর্যন্ত একই গাছ থেকে আঙ্গুর উৎপাদন করা সম্ভব।
থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা পাকা আঙ্গুর দেখতেও অনিন্দ্য সুন্দর ও লোভনীয়।
বাজারজাত করার পর বর্তমানে তার বাগানে২/৩ মন আঙ্গুর রয়েছে বলে জানান পারভেজ।পাইকাররা তার ক্ষেত থেকে সাড়ে চার’শ থেকে ৫’শ টাকা কেজি দরে আঙ্গুর কিনছেন।খুচরা ক্রেতা ও দর্শনার্থীরাও তার ক্ষেত থেকে আঙুর কিনে নিচ্ছেন। অনেকের সেলফি তুলছেন। প্রতিদিন দর্শনার্থীরা আসছেন আঙ্গুর ক্ষেত পরিদর্শনে। থোকায় থোকায় আঙুর দেখে অনেকে আঙ্গুর চাষে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। তাকে অনুসরণ করে অনেকে আঙ্গুরের চারা কিনছেন।কেউবা মুঠোফোন যোগাযোগ রাখছেন।
কৃষি দপ্তরের সহযোগিতার প্রশ্নে তরুণ উদ্যোক্তা বলেন উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সীডলেস আঙ্গুর ফলাতে উন্নত প্রযুক্তিগত সহায়তা, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা খুবই দরকার। এ ব্যাপারে তিনি কৃষি দপ্তরের পরামর্শ চান।
তার ক্ষেতের আঙ্গুরে ক্ষুদ্রাকৃতির দুটি করে বীজ রয়েছে। এটি বীজমুক্ত করা সম্ভব। পারভেজ জানালেন, উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষি অফিসার কৃষিবিদ নুরুল ইসলামসহ কর্মকর্তারা তার বাগান পরিদর্শন করেছেন।উৎসাহদানের পাশাপাশি ভুয়সী প্রশংসা করেছেন। আঙ্গুরের মান ভালো রাখতে কিছু ছত্রাক নিরোধক প্রয়োগ ও গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করেছেন। সার্বিক সহযোগিতারও আশ্বাস প্রদান করেছেন।
তিনি বেকার শিক্ষিত কৃষি উদ্যোক্তা হতে আগ্রহী যুবকদের আঙ্গুর চাষে উৎসাহিত করতে চান।
তার মতে লেখাপড়ার পাশাপাশি সদিচ্ছা ও সঠিক পরিকল্পনা থাকলে সফল উদ্যোক্তা হওয়া সম্ভব। চাকরির আশায় না থেকে উদ্যোক্তা হয়ে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।সম্ভাবনাময় আঙ্গুর চাষ সবখানে ছড়িয়ে দিতে চান তিনি। প্রমাণ করতে চান সঠিক পরিকল্পনা,সাধনা ও অধ্যবসায় থাকলে দেশের উর্বর মাটিতে সত্যিই সোনা ফলানো সম্ভব।