1. abdullah53024@gmail.com : Md Abdullah : Md Abdullah
  2. admin@sotterdorpon24.com : admin : Sotter Dorpon
  3. sotterdorpon24@gmail.com : Sazzad SD : Sazzad SD
ফতেহ লোহানীর মৃত্যুদিন: বহুমাত্রিক এক স্রষ্টার প্রস্থান - দৈনিক সত্যের দর্পণ ফতেহ লোহানীর মৃত্যুদিন: বহুমাত্রিক এক স্রষ্টার প্রস্থান - দৈনিক সত্যের দর্পণ
শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৩০ পূর্বাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি :
বাংলাদেশের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল দৈনিক সত্যোর দর্পণ পত্রিকার পক্ষ থেকে দেশ বাসিকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন সত্য প্রকাশে অবিচল” এই স্লোগানকে বুকে ধারন করে আমাদের পথ চলা, আপনার আশে-পাশে ঘটে যাওয়া ঘটনা খবরের পিছনের খবর সবার আগে দেশ-বাসিকে জানাতে আমাদের ই-মেইল করুন, আমরা তার সতত্য যাচাই করে প্রকাশ করব। যোগাযোগঃ মোবাইল: +৮৮ ০১৭৫৫-৪১৬২৬২ ই-মেইল: sotterdorpon24@gmail.com

ফতেহ লোহানীর মৃত্যুদিন: বহুমাত্রিক এক স্রষ্টার প্রস্থান

সত্যের দর্পন ডেস্ক
  • Update Time : রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২৪৩ Time View

ফাহিম শাহরিয়ার রুমি: বাংলাদেশের চলচ্চিত্র, নাটক ও সাহিত্যজগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ফতেহ লোহানী ১৯৭৫ সালের ১২ এপ্রিল চিরবিদায় নেন। তার এই প্রয়াণ বাংলা সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটায়।

মৃত্যুর প্রেক্ষাপট:
১৯৭৫ সালের ১২ এপ্রিল চট্টগ্রামের কাপ্তাইয়ে নিজের নির্মাণাধীন চলচ্চিত্র “কুয়াশা”-এর শুটিং চলাকালীন হঠাৎ মৃত্যুবরণ করেন ফতেহ লোহানী।
অনেক সূত্র মতে, তিনি কাজের মাঝেই অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সেখানেই তার জীবনাবসান ঘটে। এই ঘটনাটি শিল্পীজীবনের এক নাটকীয় ও বেদনাবিধুর সমাপ্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী:
ফতেহ লোহানী ছিলেন একাধারে—চলচ্চিত্র অভিনেতা, পরিচালক, চিত্রনাট্যকার, লেখক ও অনুবাদক, সাংবাদিক, বেতার শিল্পী ও আবৃত্তিকার৷
তিনি প্রায় ৪০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন এবং বাংলা চলচ্চিত্রের প্রাথমিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

চলচ্চিত্রে অবদান:
১৯৫৭ সালে চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা (FDC) প্রতিষ্ঠার পর তিনি অন্যতম পথিকৃৎ নির্মাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র—আকাশ আর মাটি (১৯৫৯), আসিয়া (১৯৬০) ও সাত রং (১৯৬৫)।
বিশেষ করে আসিয়া চলচ্চিত্রটি তাকে এনে দেয় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট পুরস্কার ও নিগার অ্যাওয়ার্ড—যা তার নির্মাণ দক্ষতার স্বীকৃতি।

বেতার, সাহিত্য ও অনুবাদে ভূমিকা:
ফতেহ লোহানী শুধু চলচ্চিত্রেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। তিনি বেতার জগতেও ছিলেন সক্রিয় এবং সংবাদ পাঠক ও নাট্যশিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন।
সাহিত্যজগতে তিনি অনুবাদক হিসেবেও পরিচিত—বিশেষ করে আর্নেস্ট হেমিংওয়ে-এর The Old Man and the Sea সহ বিভিন্ন বিশ্বসাহিত্যকর্ম অনুবাদ করেছেন।

সাংস্কৃতিক পরিবার:
ফতেহ লোহানীর পরিবারও ছিল সংস্কৃতিমনস্ক। তার ভাই ফজলে লোহানী ছিলেন বাংলাদেশের টেলিভিশন ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।

পুরস্কার ও স্বীকৃতি:
তার কর্মজীবনের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বহু পুরস্কার লাভ করেন, যেমন—পাকিস্তান প্রেসিডেন্ট পুরস্কার, নিগার অ্যাওয়ার্ড, মজিদ আলমাক্কী পুরস্কার ও বাচসাস পুরস্কার (মরণোত্তর)।

স্মরণে ফতেহ লোহানী:
ফতেহ লোহানীর মৃত্যুদিনে চলচ্চিত্রপ্রেমী, গবেষক ও সংস্কৃতিকর্মীরা তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইউটিউব, চলচ্চিত্রবিষয়ক ম্যাগাজিন ও সংবাদমাধ্যমে তার জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা হয়—যা নতুন প্রজন্মকে তার অবদান সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেয়।

শেষ কথা:
ফতেহ লোহানীর মৃত্যুদিন শুধু একজন শিল্পীর প্রয়াণের স্মরণ নয়—এটি বাংলা চলচ্চিত্রের শৈশবকালীন সংগ্রাম, সৃজনশীলতা ও স্বপ্নের ইতিহাসকে মনে করিয়ে দেয়।
তার জীবন ও কর্ম আজও প্রমাণ করে—একজন শিল্পী কখনো শুধু পর্দায় নয়, সময়ের ভেতরেও বেঁচে থাকেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2023 Daily Sotter Darpan
Theme Customized BY WooHostBD