
ফাহিম শাহরিয়ার রুমি: আজ মার্কিন চলচ্চিত্র জগতের প্রভাবশালী নির্মাতা John Singleton-এর মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৯ সালের ২৯ এপ্রিল মাত্র ৫১ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর অকাল প্রয়াণ চলচ্চিত্র বিশ্বের জন্য ছিল এক অপূরণীয় ক্ষতি, কারণ তিনি ছিলেন এমন একজন নির্মাতা যিনি আফ্রিকান-আমেরিকান জীবনের বাস্তবতা ও সংগ্রামকে সাহসিকতার সঙ্গে পর্দায় তুলে ধরেছিলেন।
১৯৬৮ সালের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে জন্মগ্রহণ করেন জন সিঙ্গেলটন। তিনি দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসের সহিংসতা ও বৈষম্যময় পরিবেশে বেড়ে ওঠেন, যা তাঁর চলচ্চিত্রের প্রধান বিষয় হয়ে ওঠে। তিনি University of Southern California-এ পড়াশোনা করেন এবং সেখানেই তাঁর চিত্রনাট্য লেখার প্রতিভা বিকশিত হয়।
মাত্র ২৪ বছর বয়সে তিনি নির্মাণ করেন তাঁর প্রথম চলচ্চিত্র Boyz n the Hood (১৯৯১)। এই চলচ্চিত্রটি দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসের কৃষ্ণাঙ্গ তরুণদের জীবন, দারিদ্র্য, সহিংসতা ও স্বপ্নের গল্প তুলে ধরে। এই ছবির জন্য তিনি একসঙ্গে দুইটি একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন পান—সেরা পরিচালক, সেরা চিত্রনাট্য। এর মাধ্যমে তিনি হয়ে ওঠেন প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান এবং সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি যিনি সেরা পরিচালকের জন্য মনোনীত হন।
জন সিঙ্গেলটনের চলচ্চিত্রগুলোতে সমাজ, জাতিগত বৈষম্য ও যুবসমাজের সংকট বারবার উঠে এসেছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজগুলো হলো—Poetic Justice (১৯৯৩), Higher Learning (১৯৯৫), Rosewood (১৯৯৭, Shaft (২০০০), 2 Fast 2 Furious (২০০৩), Four Brothers (২০০৫)। এছাড়া তিনি টেলিভিশন সিরিজ Snowfall-এর সহ-নির্মাতা ছিলেন, যেখানে ১৯৮০-এর দশকের মাদক সংকটকে তুলে ধরা হয়েছে।
২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে তিনি গুরুতর স্ট্রোকে আক্রান্ত হন এবং কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়ার পর মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর কারণ ছিল মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ও উচ্চ রক্তচাপজনিত জটিলতা।
জন সিঙ্গেলটন শুধু একজন পরিচালক ছিলেন না—তিনি ছিলেন এক সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রতিনিধি। তাঁর চলচ্চিত্রগুলো—কৃষ্ণাঙ্গ সমাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছে, নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদের অনুপ্রাণিত করেছে, হলিউডে বৈচিত্র্যের দরজা খুলে দিয়েছে।
বিশেষ করে “Boyz n the Hood” আজও একটি ক্লাসিক হিসেবে বিবেচিত হয়, যা আমেরিকান সমাজের গভীর সংকটকে বাস্তবভাবে তুলে ধরেছে।
জন সিঙ্গেলটনের মৃত্যুবার্ষিকী আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সিনেমা শুধু বিনোদন নয়, এটি সমাজের আয়না। তাঁর নির্মিত প্রতিটি দৃশ্য যেন আজও বলে—
“অপ্রকাশিত গল্পগুলো বলতেই হবে।”
এই অসাধারণ নির্মাতার প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা।