
ফাহিম শাহরিয়ার রুমি – বিনোদন সাংবাদিক ::
আজ বাংলা সাহিত্যের বিশিষ্ট মহিলা কবি কামিনী রায় এর ১৬০ তম জন্মদিন। তিনি একজন প্রথিতযশা বাঙালি কবি, সমাজকর্মী ও নারীবাদী লেখিকা। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর সমসাময়িক কবি ছিলেন। তিনি ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম মহিলা স্নাতক ডিগ্রিধারী ব্যক্তিত্ব।
তিনি ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বরিশালের বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম চণ্ডীচরণ সেন। তিনি একজন ব্রাক্ষ্মধর্মাবলম্বী, বিচারক ও ঐতিহাসিক লেখক ছিলেন।
কবি কামিনী রায় তাঁর পিতা চন্ডীচরণ সেনের কাছে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৮৮০ সালে তিনি কলকাতা বেথুন স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও ১৮৮৩ সালে বেথুন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ১৮৮৬ সালে বেথুন কলেজ থেকে ভারতের প্রথম নারী হিসেবে সংস্কৃত ভাষায় সম্মানসহ স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন।
কর্মজীবনে তিনি স্নাতক ডিগ্রী অর্জনের পর ১৮৮৬ সালেই বেথুন স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরে তিনি বেথুন কলেজে অধ্যাপক হন। সে যুগে মেয়েদের শিক্ষাও বিরল ঘটনা ছিল। সেই সময়ে কামিনী রায় নারীবাদে বিশ্বাসী ছিলেন। তাঁর অনেক প্রবন্ধেও এর প্রতিফলন ঘটেছে। তিনি নারী শ্রম তদন্ত কমিশন (১৯২২-১৯২৩) এর সদস্য ছিলেন।
তিনি মাত্র ৮ বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন। তাঁর কবিতায় রবীন্দ্রনাথের প্রভাব সর্বাধিক। তাঁর রচিত কবিতাগুলোতে জীবনের সুখ-দুঃখ, আশা-আকাঙ্ক্ষা, আনন্দ-বেদনার সহজ সরল ও সাবলীল প্রকাশ ঘটেছে। মাত্র ১৫ বছর বয়সে ১৮৮৯ সালে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয়। এ গ্রন্থটির ভূমিকা লিখেছিলেন বিখ্যাত কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হলে তাঁর কবি খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে আলো ও ছায়া (১৮৮৯), নির্মাল্য (১৮৯১), পৌরাণিকী (১৮৯৭), মাল্য ও নির্মাল্য (১৯০৩), অশোক সঙ্গীত (সনেট, ১৯১৪), অম্বা (নাটক, ১৯১৫), বালিকা শিক্ষার আদর্শ (১৯১৮), ঠাকুমার চিঠি (১৯২৪), দীপ ও ধূপ (১৯২৯), জীবনপথে (সনেট, ১৯৩০) প্রভৃতি। তাঁর লেখা বিখ্যাত কবিতা ‘সুখ’ এর দুটি পঙক্তি ‘সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে’ বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য সংযোজন। কবিতাটি যুগ যুগ ধরে পাঠ্যপুস্তকের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি এক সময় জনৈক বঙ্গমহিলা ছদ্মনামে লিখতেন। তিনি তাঁর নিজের লেখার পাশাপাশি অন্য সাহিত্যিকদেরও উৎসাহ করতেন। ১৯২৩ সালে তিনি বরিশাল সফরের সময় কবি সুফিয়া কামালকে লেখালেখিতে উৎসাহিত করেন।
তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনের সাহিত্য শাখার সভানেত্রী (১৯৩০) ও বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ এর সহ সভাপতি (১৯৩২-১৯৩৩) ছিলেন।
১৮৯৪ সালে স্ট্যাটিউটরি সিভিলিয়ান কেদারনাথ রায়ের সঙ্গে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯০৯ সালে তাঁর স্বামী বিয়োগ ঘটে। স্বামীর এ অকাল মৃত্যু তাঁর ব্যক্তিজীবনের মত সাহিত্যিক জীবনকেও প্রভাবিত করে।

বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি ১৯২৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক জগত্তারিণী স্বর্ণপদক লাভ করেন।
১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কবি কামিনী রায় এর জীবনাবসান ঘটে।
জন্মদিনে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।