
ফাহিম শাহরিয়ার রুমি: আজ ১৩ জুন—মিশরীয় মঞ্চ ও চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী কৌতুকাভিনেতা আলি আল-কাশারের জন্মদিন। আরব বিশ্বের কমেডি থিয়েটারকে জনপ্রিয় ও গণমুখী করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান আজও বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়।
আলি আল-কাশার জন্মগ্রহণ করেন ১৩ জুন ১৮৮৭ সালে মিশরের কায়রোতে। তাঁর পুরো নাম ছিল আলি খলিল সালেম। দরিদ্র ও সাধারণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা এই শিল্পী ছোটবেলা থেকেই মঞ্চনাটকের প্রতি গভীর আগ্রহ অনুভব করেন এবং ধীরে ধীরে স্থানীয় থিয়েটার দলে যুক্ত হন।
২০ শতকের শুরুতে তিনি “দার আল-তামসিল আল-জানিবি” নামে একটি নাট্যদল গঠন করেন। পরবর্তীতে তিনি কায়রোর ইমাদ এল-দিন স্ট্রিটের মঞ্চে নিয়মিত অভিনয় শুরু করেন এবং দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
তাঁর অভিনীত চরিত্র “ওসমান আবদেল বাসেত” আরব নাট্যজগতে এক প্রতীকী কৌতুক চরিত্রে পরিণত হয়, যা সাধারণ মানুষের জীবন ও শ্রেণি বাস্তবতাকে হাস্যরসের মাধ্যমে উপস্থাপন করত। তাঁকে মিশরীয় কৌতুক নাটকের পথপ্রদর্শক বলা হয়।
আলি আল-কাশার ১৯৩০–৫০ দশকে মিশরীয় চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগে সক্রিয় ছিলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে—Khafir el-Darak (১৯৩৬), Bawab el Amara (১৯৩৬), Amir el-Inteqam (১৯৫০) প্রভৃতি। তিনি মূলত কৌতুক চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে মিশরীয় সিনেমায় জনপ্রিয়তা অর্জন করেন এবং প্রায় ৩০–৪০টি চলচ্চিত্রে কাজ করেন।

দীর্ঘ নাট্য ও চলচ্চিত্র জীবনের পর আলি আল-কাশার ১৫ জানুয়ারি ১৯৫৭ সালে কায়রোতে মৃত্যুবরণ করেন। আলি আল-কাশার আজও আরব চলচ্চিত্র ও মঞ্চ ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নাম, যিনি হাস্যরসকে সামাজিক বক্তব্যে পরিণত করেছিলেন। আরব বিশ্বের আধুনিক কৌতুকনাট্য ও চলচ্চিত্রে তাঁর স্টাইল ও চরিত্র নির্মাণ আজও অনুসরণ করা হয়। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষের জীবনকে কেন্দ্র করে কমেডির যে ধারা তিনি তৈরি করেছিলেন, তা পরবর্তী প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।
জন্মদিনে এই মহান সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা৷