
ফাহিম শাহরিয়ার রুমি: আজ ১০ মে—ভারতীয় উপমহাদেশের চলচ্চিত্র ও সংগীত ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম পঙ্কজ কুমার মল্লিকের জন্মদিন। ১৯০৫ সালের এই দিনে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্র সংগীতের সূচনালগ্নে যাঁরা আধুনিকতার ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন, পঙ্কজ মল্লিক তাঁদের অন্যতম অগ্রদূত।
শৈশব থেকেই সংগীতের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল। কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং পরে গুরু দুর্গাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে প্রশিক্ষণ নেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সান্নিধ্য তাঁর সংগীতজীবনে বিশেষ প্রভাব ফেলে, বিশেষ করে রবীন্দ্রসংগীতের প্রতি তাঁর অনুরাগ গড়ে ওঠে।
১৯২০-এর দশকের শেষ দিক থেকেই তিনি কলকাতা বেতার (পরবর্তীতে অল ইন্ডিয়া রেডিও)-এ যুক্ত হন এবং দীর্ঘ সময় সংগীত পরিচালক ও শিল্পী হিসেবে কাজ করেন। ভারতীয় চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক গানের প্রাথমিক যুগে তিনি ছিলেন পথিকৃৎদের একজন।
তিনি শুধু সংগীত পরিচালকই ছিলেন না, বরং গায়ক ও অভিনেতা হিসেবেও বহু চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। নিউ থিয়েটার্স স্টুডিওর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্ক বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্র সংগীতকে নতুন দিগন্তে পৌঁছে দেয়।
তাঁর সংগীত পরিচালনায় নির্মিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে Devdas (1936), Doctor (1940), Zindagi (1940), Dui Purush (1945), Yatrik (1952) ইত্যাদি। বিশেষ করে “So Ja Rajkumari” এবং রবীন্দ্রসংগীতের আধুনিক পরিবেশনা তাঁকে অমর করে রেখেছে।
ভারত সরকার তাঁকে ১৯৭০ সালে পদ্মশ্রী এবং ১৯৭২ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে ভূষিত করে, যা ভারতীয় চলচ্চিত্রে তাঁর আজীবন অবদানের স্বীকৃতি।
পঙ্কজ কুমার মল্লিক ১৯৭৮ সালের ১৯ আগস্ট কলকাতা, ভারত-এ মৃত্যুবরণ করেন। তিনি তাঁর জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত কলকাতাতেই অবস্থান করতেন এবং সেখানেই ৭৩ বছর বয়সে এই মহান সংগীতশিল্পী ও চলচ্চিত্র সংগীতের অগ্রপথিকের জীবনাবসান ঘটে। তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক গানের ভিত্তি স্থাপন করে এবং রবীন্দ্রসংগীতকে জনপ্রিয় করে তোলে। আজও তাঁর সুর ও কণ্ঠ ভারতীয় সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে গভীরভাবে অনুরণিত হয়।
তাঁর জন্মদিনে চলচ্চিত্র ও সংগীত জগৎ তাঁকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে—একজন স্রষ্টা, যিনি সুরের মাধ্যমে ইতিহাস রচনা করেছিলেন।