1. abdullah53024@gmail.com : Md Abdullah : Md Abdullah
  2. admin@sotterdorpon24.com : admin : Sotter Dorpon
  3. sotterdorpon24@gmail.com : Sazzad SD : Sazzad SD
সময়ের নির্মোহ সাক্ষী: মৃণাল সেনের জন্মদিনে প্রাসঙ্গিকতা - দৈনিক সত্যের দর্পণ সময়ের নির্মোহ সাক্ষী: মৃণাল সেনের জন্মদিনে প্রাসঙ্গিকতা - দৈনিক সত্যের দর্পণ
মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৫৮ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি :
বাংলাদেশের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল দৈনিক সত্যোর দর্পণ পত্রিকার পক্ষ থেকে দেশ বাসিকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন সত্য প্রকাশে অবিচল” এই স্লোগানকে বুকে ধারন করে আমাদের পথ চলা, আপনার আশে-পাশে ঘটে যাওয়া ঘটনা খবরের পিছনের খবর সবার আগে দেশ-বাসিকে জানাতে আমাদের ই-মেইল করুন, আমরা তার সতত্য যাচাই করে প্রকাশ করব। যোগাযোগঃ মোবাইল: +৮৮ ০১৭৫৫-৪১৬২৬২ ই-মেইল: sotterdorpon24@gmail.com

সময়ের নির্মোহ সাক্ষী: মৃণাল সেনের জন্মদিনে প্রাসঙ্গিকতা

সত্যের দর্পণ ডেস্ক
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
  • ২৭৭ Time View
সময়ের নির্মোহ সাক্ষী: মৃণাল সেনের জন্মদিনে প্রাসঙ্গিকতা

ফাহিম শাহরিয়ার রুমি: বাংলা ও ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে যাঁরা শিল্প, সমাজ ও রাজনীতির সংলাপকে নতুন মাত্রা দিয়েছেন, তাঁদের অগ্রভাগে থাকবেন মৃণাল সেন। ১৪ মে ১৯২৩ সালে তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুরে জন্ম নেওয়া এই নির্মাতা শুধু একজন পরিচালক নন—তিনি ছিলেন সময়ের নির্ভীক ভাষ্যকার, এক চিন্তাশীল শিল্পী, যিনি ক্যামেরাকে ব্যবহার করেছেন সমাজের অন্তর্লীন সত্য উন্মোচনের হাতিয়ার হিসেবে।

শৈশব, শিক্ষা ও চলচ্চিত্রে প্রবেশ:
মৃণাল সেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন। ছাত্রজীবনেই তিনি রাজনীতি, সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হন। পরবর্তীতে সাংবাদিকতা, ওষুধ বিক্রেতা এবং ফিল্ম স্টুডিওতে সাউন্ড টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর চলচ্চিত্রচিন্তাকে বাস্তবতার মাটিতে দাঁড় করায়।
১৯৪০-এর দশকে তিনি ভারতীয় গণনাট্য সংঘ (IPTA)-এর সঙ্গে যুক্ত হন, যা তাঁর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও মার্কসবাদী চেতনার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে তাঁর চলচ্চিত্রে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।

চলচ্চিত্রের বিপ্লব: প্যারালাল সিনেমার পথিকৃৎ
মৃণাল সেন ছিলেন ভারতীয় “প্যারালাল সিনেমা” আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ। তাঁর সমসাময়িক সত্যজিৎ রায় ও ঋত্বিক ঘটক-এর সঙ্গে তিনি গড়ে তোলেন এক বিকল্প চলচ্চিত্রধারা—যেখানে বাণিজ্যিক বিনোদনের পরিবর্তে উঠে আসে বাস্তব সমাজ, শ্রেণি-বৈষম্য ও রাজনৈতিক অস্থিরতা।
১৯৬৯ সালের ভুবন সোম চলচ্চিত্রটি ভারতীয় নিউ ওয়েভ সিনেমার সূচনা হিসেবে বিবেচিত হয়।

কলকাতা: তাঁর চলচ্চিত্রের জীবন্ত চরিত্র
মৃণাল সেনের সিনেমায় কলকাতা কেবল একটি পটভূমি নয়, বরং একটি জীবন্ত চরিত্র। কলকাতা ৭১, একদিন প্রতিদিন, আকালের সন্ধানে এসব চলচ্চিত্রে শহরের রাজনৈতিক অস্থিরতা, মধ্যবিত্ত সংকট ও মানবিক দ্বন্দ্ব অসাধারণভাবে উঠে এসেছে। তিনি প্রথমদিকে বাইরের শত্রুর বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখলেও, পরবর্তীতে নিজের মধ্যবিত্ত সমাজের ভেতরের সংকটকে বিশ্লেষণ করেছেন—যা তাঁর চলচ্চিত্রজীবনের সবচেয়ে সৃজনশীল পর্ব হিসেবে বিবেচিত।

সম্মাননা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:
মৃণাল সেনের চলচ্চিত্র শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সমানভাবে সমাদৃত হয়। ১৮টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন। দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার (২০০৩)। পদ্মভূষণ (১৯৮৩)। ফ্রান্সের Ordre des Arts et des Lettres। কান, ভেনিস ও বার্লিন—এই তিন প্রধান চলচ্চিত্র উৎসবেই পুরস্কারপ্রাপ্ত বিরল নির্মাতাদের একজন।
তিনি চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা পরিচালকের সম্মান লাভ করেন এবং একাধিক ভাষায় কাজ করে অনন্য নজির স্থাপন করেন।

রাজনৈতিক চেতনা ও শিল্পদৃষ্টি:
মৃণাল সেন নিজেকে “private Marxist” বলে উল্লেখ করতেন। তাঁর চলচ্চিত্রে শ্রেণিসংগ্রাম, দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বারবার উঠে এসেছে। তবে তাঁর বিশেষত্ব ছিল—তিনি সরাসরি প্রচারমূলক ভাষা ব্যবহার করেননি; বরং প্রতীক, ব্যঙ্গ ও মানবিক দ্বন্দ্বের মাধ্যমে দর্শককে ভাবতে বাধ্য করেছেন। কলকাতা ৭১ এর ভাঙা কাঠামো, পদাতিক এর অন্তর্মুখী রাজনৈতিক সংকট এসবই প্রমাণ করে তিনি চলচ্চিত্রকে কেবল গল্প বলার মাধ্যম হিসেবে দেখেননি, বরং এটি ছিল তাঁর চিন্তার পরীক্ষাগার।

মধ্যবিত্তের আয়না:
মৃণাল সেনের সিনেমার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক মধ্যবিত্ত সমাজের ভেতরের ভাঙনকে তুলে ধরা। একদিন প্রতিদিন, খারিজ, আকালের সন্ধানে এসব চলচ্চিত্রে তিনি দেখিয়েছেন বাহ্যিক ভদ্রতার আড়ালে কিভাবে লুকিয়ে থাকে ভীতি, সংকট ও নৈতিক দ্বিধা। এই আত্নসমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁকে অন্য নির্মাতাদের থেকে আলাদা করে। তিনি কখনো দর্শককে স্বস্তি দেন নি বরং অস্বস্তির মধ্য দিয়েই চিন্তার দরজা খুলে দিয়েছেন।

সময়ের সঙ্গে সংলাপ:
মৃণাল সেনের চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল—তিনি তাঁর সময়ের সঙ্গে এক নিরবচ্ছিন্ন সংলাপ বজায় রেখেছেন। ১৯৬০ থেকে ৮০-এর দশকের রাজনৈতিক অস্থিরতা, নকশাল আন্দোলন, মধ্যবিত্তের সংকট—সবই তাঁর ক্যামেরায় এক নির্মোহ ভঙ্গিতে উঠে এসেছে।
ভুবন সোম (১৯৬৯) থেকে শুরু করে কলকাতা ৭১, পদাতিক—এই ধারাবাহিকতায় আমরা দেখি এক নির্মাতা কীভাবে সময়কে ভেঙে ভেঙে বিশ্লেষণ করছেন। তাঁর “কলকাতা ট্রিলজি” শহরটিকে শুধু একটি পটভূমি নয়, বরং একটি অস্থির, দ্বন্দ্বময় চরিত্রে পরিণত করেছে।

নির্মিত কাজ:
পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র (Feature Films):
রাত ভোর (১৯৫৫), নীল আকাশের নিচে (১৯৫৯), বাইশে শ্রাবণ (১৯৬০), পুনশ্চ (১৯৬১), অবশেষে (১৯৬৩), প্রতিনিধি (১৯৬৪), আকাশ কুসুম (১৯৬৫), মাটির মনিষা (ওড়িয়া, ১৯৬৬), ভুবন সোম (১৯৬৯), ইন্টারভিউ (১৯৭১), কলকাতা ৭১ (১৯৭২), পদাতিক (১৯৭৩), কোরাস (১৯৭৪), মৃগয়া (১৯৭৬), ওকা উরি কথা (তেলেগু, ১৯৭৭), পরশুরাম (১৯৭৮), একদিন প্রতিদিন (১৯৭৯), আকালের সন্ধানে (১৯৮০), চালচিত্র (১৯৮১), খারিজ (১৯৮২), খণ্ডহর (হিন্দি, ১৯৮৪), জেনেসিস (১৯৮৬), একদিন আচমকা (১৯৮৯), মহাপৃথিবী (১৯৯১), অন্তরীন (১৯৯৩), আমার ভুবন (২০০২) প্রভৃতি৷

সময়ের নির্মোহ সাক্ষী: মৃণাল সেনের জন্মদিনে প্রাসঙ্গিকতা

টেলিফিল্ম ও স্বল্পদৈর্ঘ্য কাজ (Telefilms / Short Works):
ইচ্ছাপূরণ (১৯৯২, টেলিফিল্ম), দশভাই (টিভি কাজ)। এছাড়া বিভিন্ন প্রামাণ্যচিত্র ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন, যা সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ভিত্তিক।

প্রামাণ্যচিত্র (Documentaries) – নির্বাচিত:
মুভিং পার্সপেকটিভস, ত্রিপুরা প্রসঙ্গ। বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক বিষয়ভিত্তিক ডকুমেন্টারি।

️গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:
তাঁর চলচ্চিত্র বাংলা, হিন্দি, ওড়িয়া ও তেলেগু ভাষায় নির্মিত। ১৯৭০-এর দশকের “কলকাতা ট্রিলজি” (ইন্টারভিউ, কলকাতা ৭১, পদাতিক) বিশেষভাবে আলোচিত। ভুবন সোম ভারতীয় নিউ ওয়েভ সিনেমার সূচনাকারী হিসেবে বিবেচিত।

জীবনাবসান:
২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর কলকাতায় ৯৫ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কিন্তু তাঁর চলচ্চিত্র আজও প্রাসঙ্গিক—কারণ তিনি সময়কে শুধু ধারণ করেননি, সময়কে প্রশ্ন করেছেন।

শেষ কথা:
মৃণাল সেন ভারতীয় উপমহাদেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দিকপাল। আজ তাঁর জন্মদিন শুধু একজন চলচ্চিত্র পরিচালকের স্মরণ নয়; এটি এক শিল্প-দর্শনের পুনরাবিষ্কার। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তাঁর অবদান এক অনিবার্য অধ্যায়—যেখানে ক্যামেরা হয়ে ওঠে কলম, আর দৃশ্য হয়ে ওঠে ইতিহাসের দলিল।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2023 Daily Sotter Darpan
Theme Customized BY WooHostBD