
ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি: শিশুর সুস্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিতকরণে মায়েদের উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হল ‘বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২৬ ।
“জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান; টেকসই উদ্যোগ করি যোগান”। এ প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে রবিবার ৯ আগস্ট সকাল ১০টায় জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে এবং ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাস্তবায়নে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলনায়তনে এ মতবিনিময় ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এ প্রকল্পের সাথে সহযোগী হিসেবে কাজ করছে ইউনিসেফ, সেভ দ্য চিলড্রেন, ওয়ার্ল্ড ভিশন সহ কয়েকটি সহযোগী সংস্থা।
এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবাংশ বিশ্বাস। তিনি বলেন শিশুস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় মায়ের দুধের ভূমিকা অপরিসীম।সরকার ও বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সমন্বিত টেকসই উদ্যোগের মাধ্যমে একটি সুস্থ-সবল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম কিবরিয়া হাসান, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ অলিয়ার রহমান। এসময় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মেহেদী হাসান, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ ওয়ালীয়ার রহমান, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর সহকারী অধ্যাপক হারুন অর রশীদ, উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সোহাগ, ঝিকরগাছা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম,বৈষম্যবিরোধী ছাত্র প্রতিনিধি আঁখি খাতুন, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আব্দুল মতিন, স্বাস্থ্য পরিদর্শক ফারুক হোসেন ও কামরুজ্জামান, সম্মিলনী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিতা রানী বাড়ই, মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মামুনুর রশীদ।
বক্তারা বলেন, শিশুর জন্মের পরপরই মায়ের শালদুধ পান করানো এবং প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র মাতৃদুগ্ধ খাওয়ানো শিশুর সুস্বাস্থ্য, পুষ্টি নিশ্চিতকরণ ও রোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি শিশুর বয়স দুই বছর বা তারও বেশি সময় পর্যন্ত বয়স উপযোগী সম্পূরক খাবারের সঙ্গে মাতৃদুগ্ধ পান অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, মাতৃদুগ্ধ শিশুর জন্য সর্বোত্তম, নিরাপদ ও প্রাকৃতিক খাদ্য। শিশুর সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও কর্মক্ষেত্রে মায়েদের জন্য মাতৃদুগ্ধ পান করানোর অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা সময়ের দাবি।
অনুষ্ঠানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ, পুলিশ সদস্য, পুষ্টি ও স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিগণ ,পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী,
বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সুধীজন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে মাতৃদুগ্ধ পানে বিশেষ সচেতনতা সৃষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য এ উপলক্ষে প্রতিবছর ১ থেকে ৭ আগস্ট বিশ্বব্যাপী মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালন করা হয়।