
ফাহিম শাহরিয়ার রুমি: আজ ১৩ মে—ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক স্বতন্ত্র কৌতুকাভিনেতা অসিত কুমার সেন-এর জন্মদিন। তাঁর অভিনয়ের ধরণ, সংলাপ বলার বিশেষ ভঙ্গি এবং চরিত্র নির্মাণের অভিনবত্ব তাঁকে ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক আলাদা আসনে বসিয়েছে।
জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবন:
১৯১৭ সালের ১৩ মে ব্রিটিশ ভারতের গোরখপুরে জন্মগ্রহণ করেন অসিত কুমার সেন। শৈশব থেকেই শিল্পকলার প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। পরবর্তীতে তিনি চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন এবং কর্মজীবনের শুরুতে কিংবদন্তি পরিচালক বিমল রায়-এর সহকারী হিসেবে কাজ করেন।
১৯৫০-এর দশকে কলকাতার চলচ্চিত্র জগতের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তিনি বোম্বে (বর্তমান মুম্বই)-এ চলে যান এবং সেখানেই তাঁর কর্মজীবনের বিস্তার ঘটে।
চলচ্চিত্রজীবন: পরিচালক থেকে কৌতুকাভিনেতা
অসিত সেন প্রথমে চলচ্চিত্র পরিচালনায় যুক্ত ছিলেন। তিনি ‘Parivar’ (১৯৫৬) এবং ‘Apradhi Kaun’ (১৯৫৭) চলচ্চিত্র পরিচালনা করেন। তবে পরবর্তীতে অভিনয়ের প্রতি আকর্ষণ বাড়তে থাকায় তিনি পুরোপুরি অভিনয়ে মনোনিবেশ করেন।
তিনি প্রায় ২০০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন—যা তাঁর দীর্ঘ ও সফল ক্যারিয়ারের প্রমাণ। বিশেষ করে ১৯৬০ থেকে ১৯৮০-এর দশক পর্যন্ত সময় ছিল তাঁর সেরা সময়।
অভিনয়ের বৈশিষ্ট্য:
অসিত সেনের অভিনয়ের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল তাঁর কণ্ঠস্বর ও সংলাপ বলার ধরণ। ভারী শরীরের বিপরীতে তাঁর ছিল এক ধরনের পাতলা ও ধীরগতির কণ্ঠস্বর, যা দর্শকদের কাছে আলাদা এক কৌতুকরস সৃষ্টি করত।
তিনি প্রায়ই পুলিশ অফিসার, জমিদার বা কর্তৃত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করতেন—কিন্তু সেই চরিত্রগুলোকে হাস্যরসে ভরিয়ে তুলতেন।
উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র:
তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য কিছু চলচ্চিত্র—‘Anand’ (১৯৭১), ‘Aradhana’ (১৯৬৯), ‘Amar Prem’ (১৯৭২), ‘Bombay to Goa’ (১৯৭২), ‘Bees Saal Baad’ (১৯৬২)। এই চলচ্চিত্রগুলোতে তাঁর উপস্থিতি গল্পের গাম্ভীর্যের মাঝেও এক অনন্য হাস্যরস তৈরি করেছে।
জীবনাবসান:
১৯৯৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর কলকাতায় এই প্রখ্যাত শিল্পীর মৃত্যু হয়। তবে তাঁর অভিনয় আজও ভারতীয় চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছে।
মূল্যায়ন:
অসিত কুমার সেন এমন এক শিল্পী, যিনি মূলধারার নায়ক না হয়েও দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন। তাঁর অভিনয়ের সূক্ষ্মতা, সংলাপের গতি এবং চরিত্র নির্মাণ আজও নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের জন্য এক অনুকরণীয় পাঠ। তার জন্মদিনে তাঁকে স্মরণ করা মানে শুধু একজন কৌতুকাভিনেতাকে স্মরণ করা নয়—বরং ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক গুরুত্বপূর্ণ সময় ও শিল্পরীতিকে ফিরে দেখা।