
মাইলস্টোন স্কুলে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত: শিশু ও শিক্ষকসহ নিহত ৩২, আহত শতাধিক
সত্যের দর্পণ ডেস্ক: ঢাকা, ২১ জুলাই: রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় ৩২ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার দুপুর ১টা ৬ মিনিটে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি চীনা নির্মিত F-7 BGI যুদ্ধবিমান উড্ডয়নের পরপরই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্কুল ভবনে আছড়ে পড়ে। এ ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছে অন্তত ২৫ জন শিশু শিক্ষার্থী, একজন শিক্ষক ও বিমানটির পাইলট।
বিমানটি উড্ডয়নের কিছু সময় পরই যান্ত্রিক ত্রুটির সম্মুখীন হয়। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি মাইলস্টোন স্কুলের মূল ভবনের কাছে খেলার মাঠে বিধ্বস্ত হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায়। আগুন ও বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই বহু শিশু আহত হয় এবং ভবনের একাংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এখন পর্যন্ত প্রায় ১৭০ জনের বেশি আহতের খবর পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে ৭৮ জনের শরীরে মারাত্মক দগ্ধ রয়েছে। আহতদের ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ), বার্ন ইউনিট এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসায় সহায়তার জন্য ভারত সরকার জরুরি ভিত্তিতে ডাক্তার, নার্স ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠিয়েছে।
ঘটনার পর পরই স্কুলের শিক্ষার্থীরা, অভিভাবকরা ও সাধারণ জনগণ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। মঙ্গলবার সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা সড়কে নেমে প্রতিবাদ শুরু করে এবং নিরাপত্তাহীনতার বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়। পুলিশ ছাত্রদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে।
বিমান দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বারবার দুর্ঘটনার শিকার হওয়া পুরনো প্রযুক্তির F-7 যুদ্ধবিমানের ব্যবহার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সামরিক উড্ডয়ন অনুশীলনের নিয়মিততা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির বিষয়েও তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাগুলোর একটি হয়ে রইল। সারাদেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।