
ফাহিম শাহরিয়ার রুমি: আজ বাংলা চলচ্চিত্রের প্রবাদপ্রতিম অভিনেত্রী ছায়া দেবী-র মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০১ সালের ২৫ এপ্রিল কলকাতায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই দিনটি বাংলা সিনেমার ইতিহাসে এক শোকাবহ স্মৃতির দিন, কারণ তাঁর প্রয়াণে হারিয়ে যায় এক যুগের অভিনয় ঐতিহ্য।
১৯১৪ সালের ৩ জুন তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের ভাগলপুরে জন্মগ্রহণ করেন ছায়া দেবী। শৈশব থেকেই জীবন ছিল সংগ্রামমুখর, কিন্তু সেই সংগ্রামই তাঁকে গড়ে তোলে অভিনয়ের এক শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে। ১৯৩৬ সালে দেবকী কুমার বসু পরিচালিত সোনার সংসার চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর যাত্রা শুরু হয় এবং পরবর্তী পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি বাংলা ও হিন্দি সিনেমায় নিজের অনন্য অবস্থান তৈরি করেন।
বাংলা চলচ্চিত্রে “মা” চরিত্রের এক প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন তিনি। উত্তম কুমার ও সুচিত্রা সেন-এর মতো তারকাদের সঙ্গে অসংখ্য চলচ্চিত্রে তিনি অভিনয় করেছেন। “সপ্তপদী”, “উত্তর ফাল্গুনী”, “অ্যান্টনী ফিরিঙ্গি”, “নির্জন সৈকতে” ও “হাটে বাজারে”—এসব চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় আজও দর্শকের হৃদয়ে অমলিন হয়ে আছে।
বিশেষ করে চরিত্রাভিনেত্রী হিসেবে তাঁর অভিনয় দক্ষতা ছিল অসাধারণ। কখনো মমতাময়ী মা, কখনো কঠোর সমাজের প্রতিনিধি—প্রতিটি চরিত্রে তিনি নিজস্ব এক গভীরতা এনে দিতেন। তপন সিংহ-এর পরিচালনায় নির্মিত “আপনজন” চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় ব্যাপক প্রশংসিত হয় এবং বাংলা সিনেমায় তাঁর অবস্থান আরও দৃঢ় করে।
ছায়া দেবীর কর্মজীবন শুধু দীর্ঘই নয়, বৈচিত্র্যময়ও ছিল। প্রায় দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি বাংলা চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করেছেন। তাঁর অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও তিনি পুরস্কৃত হন।
মৃত্যুর বহু বছর পরও ছায়া দেবী বেঁচে আছেন তাঁর সৃষ্ট চরিত্রগুলোর মধ্যে। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তিনি এক অনিবার্য নাম—যাঁর অভিনয় নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
মৃত্যুবার্ষিকীর এই দিনে তাঁকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হচ্ছে।