
ঝিকরগাছায় খেজুর গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত গাছেরা
আতাউর রহমান জসি ঝিকরগাছা (যশোর) থেকে।যশোরের যশ খেজুরির রস এই প্রবাদ বাক্যকে সামনে রেখে ঝিকরগাছা উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নে খেজুর গাছ তোলার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন গাছিরা। কার্তিক মাস শুরু হওয়ার পর থেকেই আবহাওয়াপরিবর্তন হয়ে শীতের আগমন জানান দিচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এ বছরে ঝিকরগাছা উপজেলার গাছিরা আগেভাগে রস সংগ্রহের জন্য ইতিমধ্যে খেজুর গাছেরপরিচর্যা শুরু করে দিয়েছেন। অপ্রয়োজনীয় খেজুর গাছের ডাল গুলি ছাঁটাই শেষ করে, খেজুর গাছ চাচদিয়ে সেখানে বাসের নলি, গুজা, লাগানোর পর্ব শেষে খেজুর গাছের রস সংগ্রহ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। সেই রস আহরণ করে গুড় ,পাটালি তৈরি করা হবে বলে গাছীরা জানিয়েছেন। এই সময় গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে বিভিন্ন ধরনের পিঠা বানানোর ধুম পড়ে যায়। বিশেষ করে রস, গুড় পাটালি, পায়েশ, নাড়ু সহ বিভিন্ন মুখরোচক খাদ্য সামগ্রী প্রতিটি ঘরের মহিলারা তৈরি করে থাকে। তাছাড়া খেজুরির রসে ভেজানো পিঠা খেতে দারুন লাগে। তবে ঐতিহ্যবাহী যশোরের খেজুর গাছের রসের সুনাম দেশ থেকে দেশান্তরে ছড়িয়ে আছে। কিন্তু গরিব অসহায় মানুষেরা অর্থের অভাবে অনেকেই ইটভাটায় খেজুরগাছ বিক্রি করে দেবার ফলে, আগের মত সারি সারি দাঁড়িয়ে থাকা খেজুর গাছ প্রায় বিলুপ্তির পথে। এ বিষয়ে সাক্ষাৎ হয় ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালি ইউনিয়নের বারবাকপুর গ্রামের আব্দুল কাদের, রমজান আলী, পঞ্চনগর গ্রামের শহিদুল ইসলাম, মাজেদ আলী, পানিসারা ইউনিয়নের হাবিবুর রহমান, আবু তালেব, জানান খেজুর গাছ চাচদেওয়ার জন্য গাছিদের পাওয়া এখন দুর্বিষহ ব্যাপার, কারণ অনেকে এই পেশা ছেড়ে দিয়েছে, আবার অনেকেই মৃত্যুবরণ করায় গাছিদের হদিশ মেলা দায়। গাছেরা জানান জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে এখন খেজুর গাছ তুলতে দু গুণ বেশিটাকা দিতে হয়, অন্যথায় আমাদের কাজ করা সম্ভবপর হয়ে ওঠে না। দ্রব্যমূল্যর দাম বৃদ্ধিতে আমাদের নাকাল অবস্থা। গত বছর ১৫০ টাকা থেকে ১৭০ টাকায় কৃষকরা রস বিক্রি করেছে। এখন রসবিক্রি করতে হলে ২৭০ টাকা থেকে ২৯০টাকায় বিক্রি না করলে আমাদের খরচ উঠানো সম্ভব হবেনা
আতাউর রহমান জসি
ঝিকরগাছা যশোর