
ফাহিম শাহরিয়ার রুমি: বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের এক নীরব অথচ গুরুত্বপূর্ণ নাম তমিজ উদ্দীন রিজভী। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় এক বহুমাত্রিক মানুষের কথা—যিনি একদিকে ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, অন্যদিকে চলচ্চিত্র নির্মাণে রেখে গেছেন স্বতন্ত্র ছাপ।
২০২২ সালের ২৫ এপ্রিল তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।
জীবন ও কর্ম:
১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন তমিজ উদ্দীন রিজভী।
তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং পরে চলচ্চিত্র জগতে যুক্ত হন। তাঁর পরিচালিত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে “আশীর্বাদ” বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যার মাধ্যমে জনপ্রিয় অভিনেত্রী অঞ্জু ঘোষ চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন।
তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্রে গ্রামীণ জীবন, মানবিক সম্পর্ক এবং সামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলন দেখা যায়। “জিদ্দি”, “আশা ভালোবাসা”, “জবাবদিহি”, “তুমি আমার”, ” ছোট মা” সহ বেশ কিছু চলচ্চিত্রে তিনি নির্মাতা হিসেবে কাজ করেছেন।
মৃত্যু ও প্রতিক্রিয়া:
২৫ এপ্রিল ২০২২ সালের রাতে তাঁর মৃত্যু সংবাদ প্রকাশিত হলে চলচ্চিত্র অঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া। সহকর্মী নির্মাতা ও শিল্পীরা তাঁকে স্মরণ করেন একজন নিবেদিতপ্রাণ চলচ্চিত্রকর্মী হিসেবে। তাঁর মৃত্যুতে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করে।
মূল্যায়ন:
তমিজ উদ্দীন রিজভীর কাজ হয়তো মূলধারার আলোচনায় সবসময় সামনে আসেনি, কিন্তু তাঁর নির্মাণশৈলী ও অবদান বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বিশেষ করে স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে চলচ্চিত্রে যে সামাজিক বয়ান তৈরি হয়েছে, তার একটি অংশে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।
শেষ কথা:
মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে স্মরণ করা মানে শুধু একজন নির্মাতাকে নয়, বরং এক প্রজন্মের সংগ্রাম, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক চেতনার ধারককে স্মরণ করা। তাঁর কাজ ও আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের অনুপ্রেরণা জোগাবে—এটাই প্রত্যাশা।