
ফাহিম শাহরিয়ার রুমি: আজ ৪ জুন। ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রখ্যাত নির্মাতা Basu Chatterjee-এর মৃত্যুবার্ষিকী। ২০২০ সালের এই দিনে মুম্বাইয়ে নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর।
হিন্দি চলচ্চিত্রে ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে যে ধারাটি “মিডল সিনেমা” বা মধ্যপন্থী সিনেমা নামে পরিচিতি পায়, বাসু চ্যাটার্জী ছিলেন তার অন্যতম প্রধান নির্মাতা। বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের চাকচিক্য এবং সমান্তরাল ধারার শিল্পগম্ভীরতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে তিনি সাধারণ মানুষের জীবন, প্রেম, পারিবারিক সম্পর্ক, সংকট ও স্বপ্নকে সহজ অথচ গভীর মানবিকতায় পর্দায় তুলে ধরেছিলেন।
১৯২৭ সালের ১০ জানুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের আজমেরে জন্মগ্রহণ করেন বাসু চ্যাটার্জী। চলচ্চিত্রে আসার আগে তিনি দীর্ঘদিন কার্টুনিস্ট ও চিত্রশিল্পী হিসেবে কাজ করেন। পরবর্তীতে চলচ্চিত্র নির্মাতা Basu Bhattacharya-এর সহকারী হিসেবে কাজ করে চলচ্চিত্রজগতে নিজের পথ তৈরি করেন।
তাঁর নির্মিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে Rajnigandha, Chhoti Si Baat, Chitchor, Piya Ka Ghar, Baton Baton Mein, Khatta Meetha, Shaukeen এবং Chameli Ki Shaadi। তাঁর চলচ্চিত্রগুলোতে প্রায়ই দেখা গেছে শহুরে মধ্যবিত্ত মানুষের হাসি-কান্না, সংকোচ, প্রেম ও জীবনের ছোট ছোট আনন্দের গল্প। বিশেষ করে রজনীগন্ধা এবং ছোটি সি বাত ভারতীয় সিনেমায় এক নতুন বাস্তবধর্মী ভাষা তৈরি করেছিল। রজনীগন্ধা চলচ্চিত্রটি ১৯৭৫ সালে ফিল্মফেয়ার পুরস্কারে সেরা চলচ্চিত্রের সম্মান অর্জন করে। অন্যদিকে ছোটি সি বাত ছবির জন্য বাসু চ্যাটার্জী শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যের ফিল্মফেয়ার পুরস্কার লাভ করেন।
চলচ্চিত্র সমালোচকরা তাঁকে প্রায়ই “মধ্যবিত্ত ভারতের চলচ্চিত্র-ইতিহাসের কথক” বলে অভিহিত করেন। তাঁর সিনেমায় নায়ক-নায়িকারা ছিলেন সাধারণ মানুষ—বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করা যুবক, চাকরিজীবী তরুণী, ছোট ফ্ল্যাটে বসবাসকারী পরিবার কিংবা প্রতিদিনের জীবনযুদ্ধে লড়াই করা মানুষ। এই বাস্তবতা দর্শকদের কাছে তাঁকে বিশেষভাবে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছিল।
কর্মজীবনে তিনি বহু সম্মাননা অর্জন করেন। স্বামী চলচ্চিত্রের জন্য ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ পরিচালক পুরস্কার, একাধিক চিত্রনাট্য পুরস্কার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং ২০০৭ সালে আইফা লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড তাঁর সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
মৃত্যুর কয়েক বছর পরও বাসু চ্যাটার্জীর চলচ্চিত্র নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তাঁর নির্মিত ছোটি সি বাত ও রজনীগন্ধা আজও ভারতীয় সিনেমার ক্লাসিক হিসেবে আলোচিত হয় এবং সাধারণ মানুষের জীবনের সৌন্দর্যকে অনাড়ম্বরভাবে তুলে ধরার জন্য স্মরণীয় হয়ে আছে। তিনি প্রমাণ করেছিলেন বড় গল্প বলার জন্য সবসময় বড় আয়োজনের প্রয়োজন হয় না; মানুষের সাধারণ জীবনই হতে পারে অসাধারণ সিনেমার উপাদান।
মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা৷