
ফাহিম শাহরিয়ার রুমি: বাংলা চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগের নেপথ্য কারিগরদের কথা বলতে গেলে চিত্রগ্রাহক বৈদ্যনাথ বসাক-এর নাম বিশেষভাবে উচ্চারিত হয়। আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী, যিনি ক্যামেরার পেছনে থেকে বাংলা সিনেমার অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্তকে অমর করে রেখেছিলেন।
বৈদ্যনাথ বসাক ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের এক প্রখ্যাত চিত্রগ্রাহক। তিনি দীর্ঘ কর্মজীবনে বাংলা, হিন্দি, ওড়িয়া, মালয়ালম ও ভোজপুরি ভাষার বহু ছবিতে কাজ করেছেন। বিশেষ করে মহানায়ক উত্তম কুমার-এর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত নিবিড়। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, উত্তম কুমারের প্রায় ৭২টি চলচ্চিত্রে তিনি চিত্রগ্রহণের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁর ক্যামেরার দক্ষতায় পর্দায় আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল মহানায়কের উপস্থিতি।
চলচ্চিত্রজীবনের শুরুতে তিনি কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার রাজ কাপুর-এর প্রযোজিত Boot Polish ছবির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। পরে কলকাতায় ফিরে এসে বাংলা চলচ্চিত্রে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। অগ্নিপরীক্ষা, সাগরিকা, সোনার খাঁচা, ছদ্মবেশী, নায়িকা সংবাদ, চেনা অচেনাসহ বহু জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান রয়েছে।
কিন্তু শিল্পজীবনের গৌরবময় অধ্যায়ের বিপরীতে তাঁর শেষ জীবন ছিল অত্যন্ত কষ্টকর। অবসরের পর আর্থিক সংকটে পড়ে তিনি দীর্ঘদিন মানবেতর জীবনযাপন করেন। সংবাদমাধ্যমে তাঁর দুরবস্থার খবর প্রকাশিত হলে চলচ্চিত্রজগতের বহু শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মী এগিয়ে আসেন। অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, পরিচালক গৌতম ঘোষ, অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায় এবং অভিনেতা দেব তাঁর পাশে দাঁড়ান।
২০২০ সালের ৪ জুন, বার্ধক্যজনিত কারণে ৯৬ বছর বয়সে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর প্রয়াণ বাংলা চলচ্চিত্রের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটায়। তবে তাঁর ক্যামেরায় বন্দী অসংখ্য দৃশ্য, আলো-ছায়ার ভাষা এবং শিল্পসাধনা তাঁকে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের স্মৃতিতে চিরজাগরুক করে রাখবে। পর্দার সামনে যেমন নায়ক থাকেন, তেমনি পর্দার পেছনেও থাকেন এমন সব শিল্পী, যাঁদের শ্রম ও মেধাতেই চলচ্চিত্র হয়ে ওঠে কালজয়ী।
মৃত্যুবার্ষির্কীতে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।