
ঝিকরগাছা (যশোর)প্রতিনিধি:
যশোর সদর উপজেলার পুরাতন কসবা পুলিশ লাইন এলাকার বাসিন্দা তানজীব আহমেদের দোকান ও বাড়ির সামনে স্থাপিত ডাস্টবিনটি অপসারণ বা স্থানান্তরের দাবিতে একাধিকবার আবেদন ও আইনি নোটিশ প্রদান সত্ত্বেও যশোর পৌরসভার পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তারফলে স্থানীয় ব্যবসা বাণিজ্য যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশমারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
, আব্দুল আজিজের পুত্র তানজিব আহমেদদীর্ঘদিন যাবত অত্র এলাকায় ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তিনি জানান, ৮ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে যশোর পৌরসভায় লিখিতভাবে আবেদন করেন, যাতে তার নবনির্মিত দোকানের সামনের ডাস্টবিনটি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন—ডাস্টবিনে প্রতিনিয়ত আবর্জনা জমে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, ছড়িয়ে পড়া বর্জ্য ও কুকুরের উৎপাত জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে, যা ব্যবসার ক্ষতি ছাড়াও জনস্বাস্থ্যের জন্যও হুমকি হয়ে উঠেছে। পথচারীরা নাকে রুমাল চেপে ও হাত দিয়ে নাক মুখ চেপে ধরে দুর্গন্ধ এলাকা পার হতে দেখা যায়।
পরিবেশবীদের মতে, জনবসতিপূর্ণ ও ব্যবসা কেন্দ্রীক এলাকায় বর্জ্য ফেলার স্থান নির্ধারণ করা পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এর ধারা ৬ ও ৭ এর লঙ্ঘন। যেখানে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এমন কোনো কার্যকলাপ পরিচালনা করতে পারবে না, যা পরিবেশের ক্ষতি করে বা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ হয়। এছাড়া স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ অনুসারে, পৌরসভার দায়িত্ব হলো নাগরিকদের স্বাস্থ্যকর ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা।
পৌরসভার নিরবতার কারণে ১২ মে ২০২৫ তারিখে বিজ্ঞ আইনজীবী হেলাল আহমেদের মাধ্যমে পৌর প্রশাসকের বরাবর একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়, যেখানে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে ডাস্টবিন অপসারণে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। অন্যথায়আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার কথাও জানানো হয়।
আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে পৌরসভার অবহেলা শুধুমাত্র ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণ নয়, বরং স্থানীয় জনগণের মৌলিক অধিকারও ক্ষুণ্ণ করছে। এটি সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী, যেখানে “জীবনের অধিকার” ও “জনস্বাস্থ্য রক্ষার দায়বদ্ধতা” স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তানজীব আহমেদ বলেন, “আমি শুধু আমার দোকানের জন্য নয়, আশপাশের মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের কথা ভেবেই বারবার আবেদন করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত পৌরসভার পক্ষ থেকে কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা । কারণএলাকাবাসীর ট্যাক্সের টাকায় পৌরসভা পরিচালিত হয়ে থাকে। এখানে পৌরসভা বাসীদের স্বার্থটাই বড় করে দেখা উচিত বলে মনে করি।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আইনি নোটিশ পাঠানোর তিন সপ্তাহ অতিক্রম হলেও এখনও পর্যন্ত ডাস্টবিন সরানোর কোনো উদ্যোগ বা পৌরসভার কর্তৃপক্ষের কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে যশোর পৌরসভার কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি। অনতিবিলম্বে ডাস্টবিন অপসারণের জন্য ভুক্তভোগী মহল জোর দাবি জানিয়েছেন।