
ফাহিম শাহরিয়ার রুমি: আজ ২ জুন। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনের প্রবীণ নির্মাতা নাজমুল হুদা মিন্টু–এর মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৯ সালের এই দিনে ৭৬ বছর বয়সে লন্ডনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দীর্ঘ কয়েক দশকের চলচ্চিত্রজীবনে তিনি জনপ্রিয় ধারার বাংলা সিনেমাকে সমৃদ্ধ করেছেন অসংখ্য দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে।
১৯৪২ সালের ৫ ডিসেম্বর নওগাঁ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন নাজমুল হুদা মিন্টু। চলচ্চিত্রের প্রতি গভীর অনুরাগ থেকেই তাঁর নির্মাণজগতে প্রবেশ। ‘সূর্য ওঠার আগে’ চলচ্চিত্র পরিচালনার মাধ্যমে তিনি পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। পরবর্তী সময়ে একের পর এক চলচ্চিত্র নির্মাণ করে তিনি দেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান গড়ে তোলেন।
বাংলাদেশের মূলধারার চলচ্চিত্রে তিনি ছিলেন একজন নিরলস কর্মী। তাঁর পরিচালিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে সূর্য ওঠার আগে, চৌধুরী বাড়ি, ডাক পিয়ন, মৌসুমী, অনেক প্রেম অনেক জ্বালা, দিনের পর দিন, সংঘর্ষ এবং মধুমালতী। এসব চলচ্চিত্রে তিনি প্রেম, পারিবারিক সম্পর্ক, সামাজিক সংকট এবং মানবিক আবেগকে গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করেছেন।
নাজমুল হুদা মিন্টু চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি চলচ্চিত্র সংগঠনের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। ১৯৮৯ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি–এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়ন ও পরিচালকদের অধিকার রক্ষায় তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।
তাঁর নির্মিত মৌসুমী চলচ্চিত্রটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়, কারণ ছবিটির নামকরণ করা হয়েছিল জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৌসুমী–এর নাম অনুসারে। এ ঘটনা বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে স্মরণ করা হয়।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে নাজমুল হুদা মিন্টু এমন এক নির্মাতা, যিনি নীরবে-নিভৃতে দর্শকদের জন্য কাজ করে গেছেন। বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় ধারাকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো আগামী দিনেও বাংলা সিনেমার ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে এবং নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে।
আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।