
ফাহিম শাহরিয়ার রুমি: বাংলা চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে যেসব ব্যক্তিত্ব পর্দার আড়ালে থেকেও গভীর প্রভাব রেখে গেছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম নাম বিজয়া রায়। আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী। কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়-এর সহধর্মিণী হলেও তিনি নিজস্ব পরিচয়, সাহিত্যচর্চা, স্মৃতিকথা এবং সাংস্কৃতিক ভূমিকার মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে এক অনন্য অবস্থান তৈরি করেছিলেন।
বিজয়া রায় জন্মগ্রহণ করেন ১৯১৭ সালে কলকাতায়। তাঁর পারিবারিক নাম ছিল বিজয়া দাস। শিক্ষিত ও সংস্কৃতিমনা পরিবারে বড় হয়ে ওঠা বিজয়া ছোটবেলা থেকেই সাহিত্য, সংগীত ও শিল্পচর্চার প্রতি আগ্রহী ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বিয়ে করেন উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায়-কে (১৯৪৮ সালে)। তাঁদের দাম্পত্য জীবন বাংলা সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্র ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।
বিজয়া রায় ছিলেন সত্যজিৎ রায়ের সৃষ্টিশীল জীবনের এক নিরব সহযোগী। রায়ের বহু চলচ্চিত্র নির্মাণের সময় তিনি পারিবারিক ও মানসিক সহায়তা প্রদান করেন। বিশেষ করে রায়ের শুটিং, বিদেশ সফর এবং লেখালেখির সময়ে তিনি সংসার ও পরিবারকে স্থিতিশীল রাখতেন। তাঁদের একমাত্র সন্তান সন্দীপ রায় পরবর্তীতে একজন খ্যাতনামা চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
বিজয়া রায় নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা ও সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে কাটানো সময় নিয়ে লেখেন বিখ্যাত স্মৃতিকথা “Manik and I” (আমাদের কথা)। এই গ্রন্থটি একটি পারিবারিক স্মৃতিচারণ ও বিশ্ব চলচ্চিত্র ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত। এই বইয়ের মাধ্যমে পাঠকরা জানতে পারেন সত্যজিৎ রায়ের ব্যক্তিগত জীবন, তাঁর কাজের ধারা, এবং শিল্পী হিসেবে তাঁর মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি।
দীর্ঘ অসুস্থতার পর বিজয়া রায় ২০১৫ সালের ২ জুন কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৮ বছর। তাঁর মৃত্যুতে ভারত ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।
মৃত্যুবার্ষিকীতে এই মহীয়সী নারীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।