
ফাহিম শাহরিয়ার রুমি: বাংলাদেশে চলচ্চিত্র-গবেষণা ও চলচ্চিত্র বিষয়ক লেখালেখিতে যে ক’জন লেখক ও গবেষক মৌলিক অবদান রেখে গেছেন, তাঁদের মধ্যে অনুপম হায়াৎ একটি সুপরিচিত ও গুরুত্বপূর্ণ নাম। আজ তাঁর জন্মদিন। ১৯৫০ সালের ১ জুন নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদীর পূর্বতীরে গোপিন্দী গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মূলত চলচ্চিত্র সমালোচক, লেখক ও গবেষক হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি চলচ্চিত্র বিষয়ক লেখালেখি, বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাস অনুসন্ধান, নন্দনতত্ত্ব, চলচ্চিত্র গবেষণাকে একাডেমিক ও প্রামাণ্য ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন এবং চলচ্চিত্র শিক্ষা প্রসারে কাজ করে যাচ্ছেন।
অনুপম হায়াৎ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিষয়ে পড়াশোনা করেন এবং সেই সময় থেকেই চলচ্চিত্র নিয়ে গভীর আগ্রহ গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে তিনি চলচ্চিত্র বিষয়ে গবেষণাধর্মী লেখালেখিকে পেশাগতভাবে গ্রহণ করেন।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাস নিয়ে প্রামাণ্য গ্রন্থ রচনায় তাঁর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে—বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাস (১৮৯৬–১৯৮৭), চলচ্চিত্র বিদ্যা, চলচ্চিত্র কলা, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র, রবীন্দ্রনাথ ও চলচ্চিত্র, নজরুলের চলচ্চিত্র ও নাটক, জহির রায়হানের চলচ্চিত্র: পটভূমি ও বৈশিষ্ট্য। এসব বইয়ের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসকে একটি ধারাবাহিক ও গবেষণাভিত্তিক কাঠামোতে উপস্থাপন করেছেন, যা পরবর্তী প্রজন্মের গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
লেখালেখির পাশাপাশি অনুপম হায়াৎ চলচ্চিত্র শিক্ষার ক্ষেত্রেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি চলচ্চিত্র বিষয়ক পাঠ্যবই রচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের একাডেমিক পর্যায়ে চলচ্চিত্র অধ্যয়নকে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি চলচ্চিত্রকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্প ও ভাষা হিসেবে বোঝার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
চলচ্চিত্র গবেষণায় অবদানের জন্য তিনি বিভিন্ন জাতীয় ও সাংস্কৃতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে—ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার, নজরুল পুরস্কার, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পদক (চলচ্চিত্র বিভাগ)। এসব সম্মাননা তাঁর দীর্ঘ গবেষণা ও লেখালেখির স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
অনুপম হায়াতের গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তথ্যনির্ভরতা ও ইতিহাস অনুসন্ধানের গভীরতা। তিনি চলচ্চিত্রকে সমাজ, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের প্রতিফলন হিসেবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর লেখা ও গবেষণা চলচ্চিত্রকে শিল্প, ইতিহাস ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গবেষণার একটি শক্ত ভিত নির্মাণ করেছেন। যা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের পথচলায় ভবিষ্যতে গবেষক ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।
জন্মদিনে তাঁর প্রতি রইল শ্রদ্ধা ও শুভকামনা।